মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাকিস্তান যেভাবে হোয়াইট হাউসের আস্থা অর্জন করল ভয়াবহ বন্যায় ডুবে যাচ্ছে দেশ, বড় মাপের বিদ্যুৎ বিপর্যয় সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে কেন এই শত্রুতা? টেলিকম মন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ কোটি টাকায় বালুমহালের ইজারা, ছাত্রদল-বিএনপি নেতার টাকার উৎস নিয়ে প্রশ্ন ৩ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো ডা. দীপু মনিকে, পক্ষে দাঁড়াননি কোনো আইনজীবী স্পেনের পর এবার যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল না ইতালি ভারতের মুর্শিদাবাদে মীর জাফরের ৩৪৬ বংশধরের ‘নাগরিকত্ব’ এখনো বাতিল ইসরায়েলের মৃত্যুদণ্ড আইন: ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আন্তর্জাতিক নিন্দা জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ আজ

ইসরায়েলের মৃত্যুদণ্ড আইন: ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে আন্তর্জাতিক নিন্দা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬

ইসরায়েলের সংসদ কনেসেট সোমবার (৩০ মার্চ) একটি বিতর্কিত আইন পাস করেছে, যার ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি সামরিক আদালতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় ইসরায়েলিদের হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) ডিফল্ট শাস্তি হিসেবে কার্যকর হবে। আইনটি ৬২-৪৮ ভোটে পাস হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভি-এর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে।

নতুন আইনটি শুধুমাত্র ফিলিস্তিনি বন্দিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ইসরায়েলি নাগরিকদের ক্ষেত্রে একই অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই। ফাঁসির দণ্ড সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে কার্যকর করা হবে, যদিও কিছু ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে জীবনকালীন কারাদণ্ড হতে পারে। ইসরায়েল ১৯৬২ সালের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেনি; তখন একমাত্র নাজি অপরাধী অ্যাডলফ আইখম্যান-এর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর করা হয়েছিল।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই আইনকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এটি দখলদারিত্বের নীতির অংশ এবং ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নেই। হামাসও আইনটিকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের জীবনের জন্য ‘বিপজ্জনক নজির’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি এবং ইতালি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মৃত্যুদণ্ডকে অমানবিক ও অকার্যকর বলে উল্লেখ করে ইসরায়েলকে আইনটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।জাতিসংঘের মানবাধিকার কর্মকর্তারা বলেছেন, এই আইন আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করতে পারে এবং নিষ্ঠুর শাস্তির বিরুদ্ধে সুরক্ষা ভঙ্গ করতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আইনটিকে বৈষম্যমূলক ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে নিন্দা করেছে। তারা বলেছে, এটি ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘আপার্থাইড’-এর আরেকটি হাতিয়ার হতে পারে।

ইসরায়েলি বিরোধী দল ও স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই আইনকে ইসরায়েলের ‘ইহুদি ও গণতান্ত্রিক’ চরিত্রের পরিপন্থী হিসেবে সমালোচনা করেছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, আইনটি সহিংসতা আরও বাড়াবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে আরও জটিলতা সৃষ্টি করবে।

আইনটি পাস হওয়ার পর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকে তীব্র নিন্দা ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, আইনটি ৩০ দিনের মধ্যে কার্যকর হবে।

 

 

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102