মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারকে এক চরম সংকটময় পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালি বেশিরভাগ জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ থাকায় বহু দেশ জ্বালানি সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৩২ শতাংশেরও বেশি বেড়ে মার্চের বেশিরভাগ সময়জুড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট থাকায় এর সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব পড়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। ‘দ্য কোবেইসি লেটার’-এর তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়াজুড়ে পাঁচ শতাধিক গ্যাস স্টেশনের জ্বালানি পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল, যেখানে ১৮৭টি স্টেশনে ডিজেল শেষ হয়ে গেছে এবং আরও ৩২টি স্টেশনে সব ধরনের জ্বালানি নিঃশেষ। কুইন্সল্যান্ডে ৫৫টি স্টেশনে ডিজেল নেই এবং আরও ৩৫টি স্টেশনে সাধারণ আনলেডেড পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে।
ভিক্টোরিয়ার ১৩৪টি স্টেশনে জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যেখানে এক বা একাধিক গ্রেডের জ্বালানি অনুপস্থিত। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ৪৯টি স্থানে সরবরাহে বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্বব্যাপী সংকট বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। ফিলিপাইনে রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র নির্বাহী আদেশ ১১০-এ স্বাক্ষর করে জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন।
দক্ষিণ কোরিয়া তাদের সম্পদ নিরাপত্তা সতর্কতা স্তর ২-এ উন্নীত করেছে এবং সরকারি খাতে বাধ্যতামূলক পাঁচ দিনের যানবাহন আবর্তন ব্যবস্থা চালু করেছে। প্রায় ১৫ লাখ যানবাহন এই লাইসেন্স প্লেটভিত্তিক বিধিনিষেধের আওতায় এসেছে, যার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সাশ্রয়ের আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা কমাতে সিউল পাঁচটি পারমাণবিক চুল্লি দ্রুত পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে।
কেনিয়ায় প্রায় ২০ শতাংশ স্বাধীন জ্বালানি আউটলেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। পেট্রোলিয়াম আউটলেটস অ্যাসোসিয়েশন অব কেনিয়ার (পিওএকে)-এর চেয়ারম্যান মার্টিন চোম্বা সতর্ক করে বলেছেন, সরবরাহ সীমিত থাকায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
তার মতে, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে দুই সপ্তাহের মধ্যে গুরুতর সংকট তৈরি হতে পারে।