মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার আবহে নতুন মোড়, ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত বাড়াল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইরানের অনুরোধের ভিত্তিতে হামলা বন্ধ রাখার সময়সীমা ৫ দিন থেকে বাড়িয়ে ১০ দিন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভোরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি এ কথা বলেন।
পোস্ট ট্রাম্প লেখেন, আগামী ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে কোনো নতুন হামলা করা না।
তবে এই সিদ্ধান্ত যে সাময়িক, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘দারুণ আলোচনা চলছে, তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান সরকারের তরফেই এই সময় বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল।
এদিকে ট্রাম্পের এম দাবি সরাসরি খারিজ করেছে তেহরান। ইরানের সরকারি সূত্র বলছে, এ বিষয়ে কোনো আলোচনা বা অনুরোধই করা হয়নি।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জল্পনা এখন তুঙ্গে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণায় নির্দিষ্ট কোনো শর্তের উল্লেখ না থাকলেও ‘ইরানের অনুরোধের’ প্রসঙ্গ থেকে বোঝা যাচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে কোনো না কোনো পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ, এর আগে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এমনকি ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রথমে ৫ দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা এবার বাড়িয়ে ১০ দিন করা হল।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের মাধ্যমে ১৫ দফার একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও ইরানের কাছে পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন। সেই প্রস্তাবে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ বন্ধ, পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি বাতিল, ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার সীমিত করা এবং হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার মতো শর্ত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
তবে পাল্টা কড়া অবস্থান নিয়েছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি হলে তা তাদের শর্তেই হবে। তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- আমেরিকা ও ইজরায়েলের আগ্রাসন বন্ধ, ভবিষ্যতে আর হামলা না করা, যুদ্ধক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণ, আঞ্চলিক সংঘর্ষ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অধিকার স্বীকার করা।