ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালায়। এই হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এর জবাবে ইরান উভয় দেশের বিরুদ্ধে একের পর এক পাল্টা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের এক বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘কোনো ভুল করে’, তাহলে ইরান বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূল দখল করতে প্রস্তুত।
তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান তার ‘আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে’ প্রস্তুত।
ইরানের জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুর্তজা সিমিয়ারি এসব কথা বলেন।
তিনি জানান, তেহরান বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলরেখা দখলের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। একই ধরনের মন্তব্য তিনি আইআরআইবিকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারেও করেন।
সিমিয়ারি বলেন, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের সামরিক বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের উপকূল দখল করতে এবং ‘আঞ্চলিক ভূদৃশ্যকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে’ প্রস্তুত।
‘সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের উপকূলে আমাদের প্রবেশ করা আলোচ্যসূচিতে রয়েছে,’—এভাবেই সতর্ক করেন তিনি।
এর কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন জায়েদ ইরানি হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, দেশটি ‘কখনোই সন্ত্রাসীদের ব্ল্যাকমেইলের শিকার হবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশের মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ফ্রান্সের সাবেক রাষ্ট্রদূত জেরার্ড আরাউড। এর জবাবে আবদুল্লাহ বিন জায়েদ ওই মন্তব্য করেন।
গারগাশ এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের নির্লজ্জ আগ্রাসনের গভীর ভূরাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, যা ইরানি হুমকিকে উপসাগরীয় কৌশলগত চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে এবং উপসাগরীয় নিরাপত্তার স্বাতন্ত্র্যকে আরও জোরদার করেছে।’
তিনি আরও জানান, এর ফলে দেশটি ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করছে।
এর জবাবে আরাউড বলেন, এই নীতি অনুসরণ করলে ‘এমন একটি দেশের ওপর নির্ভরশীলতা আরও গভীর হবে, যে দেশটি নিজেদের স্বার্থের তোয়াক্কা না করে আপনাদের একটি ভয়াবহ সংঘাতে জড়িয়ে ফেলেছে।’