বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

জালিয়াতি ঠেকাতে আরও কঠোর হচ্ছে এফআরসি

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে পূর্বের তারিখ দিয়ে সই (ব্যাকডেটিং) করার প্রবণতা ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। নতুন এক নির্দেশনায় সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ব্যাকডেট দিয়ে সই করা গুরুতর পেশাগত অসদাচরণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এফআরসি জারি করা নির্দেশনায় জানায়, নিরীক্ষা প্রতিবেদনের তারিখ কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এই তারিখের মাধ্যমে বোঝানো হয় যে, নিরীক্ষক প্রয়োজনীয় ও যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ সম্পন্ন করেছেন এবং নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সইয়ের তারিখ পরিবর্তন বা কারসাজি করা হলে তা বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করে। একই সঙ্গে এটি আর্থিক প্রতিবেদন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এফআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা মানদণ্ড (আইএসএ) অনুযায়ী নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ব্যাকডেটে স্বাক্ষর দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বর্তমান আইন বা মানদণ্ডে কোনো অবস্থাতেই এই ধরনের চর্চার অনুমোদন নেই।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সই করার আগে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদিত হতে হবে। এ ছাড়া নিরীক্ষার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই প্রতিবেদনে সই করতে হবে এবং সইয়ের তারিখ সেই সময়ের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

এ ছাড়া নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সিস্টেম (ডিভিএস) ব্যবহার। নিরীক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন কোড (ডিভিসি) সংগ্রহ করতে হবে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে সই করার তিন দিনের মধ্যেই এই কোড সংগ্রহ করতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে যথাযথ কারণ দেখিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে কোড নেওয়া যাবে, তবে তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কড়া নজরদারির আওতায় থাকবে।

নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন বা ব্যাকডেটিংয়ের মতো অনিয়ম প্রমাণিত হলে তা পেশাগত অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।

এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষক ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয়ের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই ধরনের অপরাধে বাংলাদেশে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অর্ডার, ১৯৭৩সহ সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102