মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে বড় ধরনের ধস নামানোর ঠিক ১৫ মিনিট আগে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজি ধরেছিলেন একদল ট্রেডার।
এক্সচেঞ্জ ডেটা এবং রয়টার্সের প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্পের ঘোষণার ঠিক আগে বিপুল পরিমাণ তেলের ফিউচার কন্টাক্ট বিক্রি করা হয়, যা বাজারে আগাম তথ্য ফাঁসের বা ‘ইনসাইডার ট্রেডিং’-এর জোরালো সন্দেহ তৈরি করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (২৩ মার্চ), যখন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা পাঁচ দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে তিনি ইরানকে আলটিমেটাম দিয়েছিলেন যে, সোমবারের মধ্যে বিতর্কিত হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘গুঁড়িয়ে দেওয়া’ হবে। ট্রাম্পের এই আকস্মিক নমনীয় বার্তার পরই বিশ্ববাজারে তেলের দামে নজিরবিহীন পতন ঘটে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের (এলএসইজি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সকাল ১০:৪৯ থেকে ১০:৫০ মিনিটের মধ্যে—অর্থাৎ ট্রাম্পের পোস্টের ঠিক ১৫ মিনিট আগে—ট্রেডাররা ব্রেন্ট এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের ৫,১০০ লট বিক্রি করেন।
রয়টার্স জানায়, এই বিপুল পরিমাণ তেলের বাজারমূল্য প্রায় ৫১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তথ্য অনুযায়ী, ওই এক মিনিটের ব্যবধানে বাজারে কেনার চেয়ে বিক্রির আধিক্য ছিল সবচেয়ে বেশি, যা সাধারণ বাজার পরিস্থিতিতে অত্যন্ত অস্বাভাবিক।
ট্রাম্পের পোস্টটি জনসমক্ষে আসার পর বাজারে লেনদেনের গতি নাটকীয়ভাবে বেড়ে যায়। মাত্র ৬০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ১৩,০০০ লট বা ১৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল হাতবদল হয়।
এর ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১১২ ডলার থেকে এক ধাক্কায় ৯৯ ডলারে নেমে আসে। একইভাবে ডব্লিউটিআই ক্রুড ৯৯ ডলার থেকে কমে ৮৬ ডলারে পৌঁছায়। ট্রাম্পের ঘোষণা আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই তেলের দাম প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পায়।
জানা যায়, যারা এই ঘোষণার ১৫ মিনিট আগে বিশাল অংকের তেল ‘শর্ট সেল’ করেছিলেন, তারা এই দরপতনের ফলে কয়েক কোটি ডলার মুনাফা লুফে নিয়েছেন।
এদিকে, এই অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জ (আইসিই) এবং সিএমই গ্রুপ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এছাড়া মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) এবং হোয়াইট হাউসও এখন পর্যন্ত কোনো উত্তর দেয়নি।
উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমে গেছে। বর্তমানে তেলের দাম যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
সূত্র : রয়টার্স