বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০২ পূর্বাহ্ন

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ : ‘শান্তি আলোচনার’ আয়োজক হতে চায় পাকিস্তান

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬

ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আয়োজক হিসেবে পাকিস্তানের নাম সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক যোগাযোগ- এই দুই কারণে পাকিস্তানকে তুলনামূলক নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আলোচনা বাস্তবায়িত হলে, পাকিস্তানের বৈশ্বিক গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের চীন সফরের আগে পাকিস্তানের গোপন কূটনৈতিক ভূমিকার পর সবচেয়ে বড় কৌশলগত সাফল্য হতে পারে।

গত এক বছরে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে পাকিস্তান সক্রিয় ছিল। এতে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিশেষ করে একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি চুক্তি এবং নিউইয়র্কের রুজভেল্ট হোটেল পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে সহযোগিতা এই সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, ইরান সংঘাত শুরুর পর থেকেই পাকিস্তান নীরবে কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একাধিক বার্তা আদান-প্রদানেও ভূমিকা রেখেছে ইসলামাবাদ। শিগগিরই পাকিস্তানের রাজধানীতে উভয় পক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের এই ভূমিকা তার কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে থাকা দেশটি এখন পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে পুনরায় আবির্ভূত হতে পারে।

ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে স্থিতিশীল। যদিও সীমান্ত ইস্যু নিয়ে মাঝে মাঝে উত্তেজনা দেখা গেছে, তবুও দুই দেশ সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করেছে।

অন্যদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেও পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কাতারের মতো দেশগুলোর তুলনায় পাকিস্তানকে ইরান বেশি নিরপেক্ষ মনে করতে পারে, কারণ সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি নেই এবং পাকিস্তান নিজেই একটি শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্র।

এদিকে, দীর্ঘস্থায়ী ইরান যুদ্ধ পাকিস্তানের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্ন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা- সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ দ্রুত সংঘাতের সমাধান চায়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102