মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদরকে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ করেছে ইরান। গত সপ্তাহে ইসরায়েলের হামলায় নিহত আলী লারিজানির স্থানে নতুন করে তিনি আজ স্থলাভিষিক্ত হলেন।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপমন্ত্রী সাইয়েদ মেহেদি তাবাতাবাই।
প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের বরাত দিয়ে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, যুলঘাদর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
মোহাম্মদ বাঘের যুলঘাদর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সাবেক কর্মকর্তা। তার দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি ইরানের সরকার ও সামরিক বাহিনীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে আইআরজিসির উপকমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন, জয়েন্ট স্টাফের প্রধান এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী বিভাগের উপপ্রধান পদ।
২০০৭ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তাকে বাসিজের সঙ্গে কাজ করার জন্য নিযুক্ত করেন। বাসিজ হলো একটি আধাসামরিক বাহিনী, যা অভ্যন্তরীণ ভিন্নমত দমন করে।
এ ছাড়াও তিনি কট্টরপন্থি রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনেজাদের অধীনে উপঅভ্যন্তরীণ মন্ত্রী ও ইরানের বিচার বিভাগের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
জনাব যুলঘাদর যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছেন। কিছু তালিকায় তাকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, যুলঘাদর তার কয়েক দশকের সামরিক, নিরাপত্তা ও বিচার বিভাগীয় অভিজ্ঞতা নিয়ে সংকটময় মুহূর্তে এই পদে এসেছেন।
এর আগে এই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি, আয়াতুল্লাহ খামেনির সহযোগী আলি শামখানি এবং কট্টর রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ সাঈদ জালিলি।
তবে ইসরায়েল সম্প্রতি আলি লারিজানিকে হত্যা করার পর ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন প্রধান যুলঘাদরও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।