বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

ফের বাড়ল তেলের দাম

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ, ২০২৬

পারস্য উপসাগরে যুদ্ধ থামানো নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়ে দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি নাকচ করে তেহরানের এই বিবৃতির পরেই বিশ্ববাজারে ক্রুড তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

এর প্রভাবে আগের দিন তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমলেও মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) লেনদেনের শুরুতেই তা ফের লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১.০৬ ডলার বা ১.১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০১ ডলারে। পাল্লা দিয়ে ১.৫৮ ডলার বা ১.৮ শতাংশ বেড়েছে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটও (ডব্লিউটিআই)। বর্তমানে এর প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৮৯.৭১ ডলার।

সোমবার এক ঘোষণায় ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সম্ভাব্য হামলা পাঁচ দিন স্থগিত রাখা হয়েছে। এমনকি অজ্ঞাতপরিচয় ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনার দাবি করে তিনি বলেন, দুই দেশ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

তবে তেহরান এই দাবিকে ‘আর্থিক বাজারকে প্রভাবিত করার কৌশল’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) উল্টো জানিয়েছে, তারা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলোতে নতুন করে হামলা চালিয়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণার পর বাজার কিছুটা শান্ত হলেও ইরানের প্রত্যাখ্যান আবারও শঙ্কিত করে তুলেছে।

তিনি বলেন, সামান্য এই মূল্যবৃদ্ধি আসলে অস্থির বাজারে থিতু হওয়ার চেষ্টা। কারণ মিসাইল হামলা সাময়িক বন্ধ থাকলেও হরমুজ প্রণালি এখনও পুরোপুরি বিপদমুক্ত নয়।

উল্লেখ্য, এই নৌপথ দিয়েই বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করা হয়।

আর্থিক পরামর্শদাতা সংস্থা ম্যাকোয়ায়েরি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম ১১০ ডলারের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে পারে।

তিনি আরও জানান, এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত এই নৌপথ বন্ধ থাকলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারেও পৌঁছে যেতে পারে। বর্তমানে যুদ্ধের কারণে এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ইসফাহান ও খোররমশাহরের গ্যাস ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো অন্যতম।

সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ওয়াশিংটন রুশ ও ইরানি তেলের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলেও পরিস্থিতি খুব একটা উন্নতি হয়নি।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল জানিয়েছেন, প্রয়োজনে জরুরি মজুত ভান্ডার থেকে আরও তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102