ইরান ও চীনের সাম্প্রতিক কৌশলগত সহযোগিতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন ভূ-রাজনৈতিক ও আর্থিক খেলাকে সামনে এনেছে। চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং মার্কসবাদ ও কনফুসিয়ান দর্শনের সংযোগের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, ‘ভাষার সুনির্দিষ্ট ব্যবহার ও নৈতিক দিকনির্দেশনা কেবল এমন রাষ্ট্রকেই পরিচালনা করতে সক্ষম, যারা সঠিকভাবে রূপক ও নৈতিক নীতি অনুসরণ করে।’ এর পরিপ্রেক্ষিতে চীন ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধপ্রবণ’ মনোভাবের সমালোচনা করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল বৈশ্বিক হুমকি নয়, নৈতিক হুমকিও হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির কর্নেল একটি রূপক ব্যবহার করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র ২৫০ বছরের ইতিহাসে ১৬ বছরই শান্তিতে কাটিয়েছে, যা যুদ্ধের প্রতি তাদের আসক্তিকে প্রমাণ করে। একই সময়ে চীন ইরানের সামরিক সক্ষমতাও আধুনিকায়ন করেছে। ইরানের কৌশলগত নেটওয়ার্ক এখন বেইডু স্যাটেলাইট সিস্টেম এর সঙ্গে সংযুক্ত, ফলে মার্কিন ও ইসরায়েলি জোটের প্রতিটি পদক্ষেপ একটি ডিজিটাল প্রাচীরের মুখোমুখি হচ্ছে। চীনের সরবরাহিত দীর্ঘপাল্লার রাডার ও রাশিয়ার অভিজ্ঞতা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা আরও বাড়িয়েছে।
আর্থিক ক্ষেত্রে, ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পেট্রোডলারের পরিবর্তে পেট্রো-ইউয়ান চালু করেছে। কেবলমাত্র ইউয়ানে লেনদেন সম্পন্ন তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল পাচ্ছে। চীনের ১৫তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং বেইজিংয়ের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল অনুযায়ী, এটি জ্বালানি নিরাপত্তা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সবুজ শক্তিকে সমন্বিতভাবে উন্নত করার একটি অংশ। ইরানের এই পদক্ষেপকে ‘আর্থিক পারমাণবিক’ কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা গ্লোবাল সাউথের জন্য একটি নতুন মডেল স্থাপন করছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সংযোগ করিডর এবং পেট্রো-ইউয়ান- উভয়ই এখন সাম্রাজ্যবাদী প্রভাব কমানোর জন্য কৌশলগত হাতিয়ার। চীন এবং ইরানের যৌথ এই কৌশল আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একধরনের জটিল ‘গো’ খেলায় পরিণত হয়েছে, যেখানে ধৈর্য, অবস্থান গ্রহণ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা মূল চাবিকাঠি। এই কৌশলগত ধাপে, চীন এবং ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও তার সমর্থিত জোটকে ধীর ও ব্যর্থ করার অবস্থানে আনার চেষ্টা করছে, যেখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, প্রযুক্তি, ও ভূ-রাজনীতি এক সঙ্গে কাজ করছে।