বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৬ পূর্বাহ্ন

যে কারণে ইরানের ড্রোন হামলা ঠেকানো কঠিন

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬
এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে কেন এই ড্রোনগুলো ঠেকানো কঠিন।

ব্রিটেনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (রুসি)-এর গবেষক টমাস উইথিংটন বলেন, আঘাতে বিস্ফোরিত হওয়ার জন্য ডিজাইন করা শাহেদ ড্রোনগুলো তাদের অবস্থান নির্ধারণে আঘাতের ঠিক আগে বা পরে জিপিএস ব্যবহার করে এবং সাধারণত এরপর রিসিভার বন্ধ করে দেয়।

এরপর ড্রোনগুলো জাইরোস্কোপ ব্যবহার করে লক্ষ্যের দিকে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে। এটি ‘ইনার্শিয়াল নেভিগেশন সিস্টেম’ নামে পরিচিত।

উইথিংটন বলেন, লক্ষ্যবস্তুকে রক্ষাকারী ব্যবস্থার কারণে জিপিএস জ্যাম হতে পারে। আপনি যদি এখন মধ্যপ্রাচ্যে জিপিএস জ্যামিংয়ের মানচিত্র দেখেন, দেখবেন সেখানে ব্যাপক জ্যামিং হচ্ছে। জিপিএস ব্যবহার না করলে এই জ্যামিং এড়ানো সম্ভব।

শেষ পর্যন্ত ড্রোনগুলো সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার জন্য আবার জিপিএসে ফিরে আসতে পারে অথবা অফলাইনে থেকেই লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। উইথিংটন বলেন, এটি সবসময় নিখুঁত না হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট নির্ভুল।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে শাহেদ ধাঁচের ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০২৩ সালে ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি জানায়, এসব ড্রোনে অ্যান্টেনা ইন্টারফেরেন্স সাপ্রেশন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়, যা জ্যামিং সংকেতকে বাধাগ্রস্ত না করে কাঙ্ক্ষিত জিপিএস সংকেত বজায় রাখে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের শুরুর দিকে সাইপ্রাসে আঘাত হানা একটি ইরানি-নির্মিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষে জ্যামিং-প্রতিরোধী ব্যবস্থা পাওয়া যায়। অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক টড হামফ্রেস বলেন, ‘তারা সহজলভ্য যন্ত্রাংশ দিয়ে ড্রোন তৈরি করেছে, কিন্তু এতে মার্কিন সামরিক জিপিএস সরঞ্জামের অনেক সক্ষমতা রয়েছে।’

এসব ড্রোনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা গড়তে উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম প্রয়োজন। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইগনাট বলেন, শাহেদ ড্রোনগুলোকে আরও উন্নত করা হয়েছে।

২০২৩ সালের একটি রুসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহেদ ড্রোন প্লাস্টিক ও ফাইবারগ্লাসের মতো হালকা, রাডার-শোষণকারী উপকরণ দিয়ে তৈরি। ছোট আকার এবং কম উচ্চতায় উড্ডয়ন এই ড্রোনগুলোকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়াতে সাহায্য করে।

কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইরান একাধিক পজিশনিং সিস্টেম ব্যবহার করছে, যা ড্রোনগুলোর জন্য জ্যামিং এড়ানো সহজ করে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রযুক্তি উপদেষ্টা সেরহি বেসক্রেস্টনভ বলেন, ইরান বেইডু সিস্টেম ব্যবহার করছে, যা চীনের জিপিএসের প্রতিদ্বন্দ্বী। রাশিয়ায় তৈরি শাহেদ ড্রোনগুলোতে বেইডু এবং রুশ গ্লোনাস উভয়ই ব্যবহৃত হয়।

অনেকে ধারণা করছেন, ইরান লোরান নামক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার রেডিও নেভিগেশন সিস্টেমও ব্যবহার করতে পারে। ২০১৬ সালে ইরান এই প্রযুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দেয়, তবে এটি বর্তমানে সক্রিয় কি না তা নিশ্চিত নয়।

সামরিক বাহিনী মূলত কামান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইন্টারসেপ্টর ড্রোন ব্যবহার করে শাহেদ ড্রোনগুলো ভূপাতিত করে প্রতিরক্ষা গড়ে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল লেজার প্রযুক্তিও ব্যবহার করছে।

জ্যামিং কার্যকর হতে পারে, যেমনটি ইউক্রেনে দেখা গেছে। এ ছাড়া স্পুফিংয়ের মাধ্যমে ড্রোনের নেভিগেশন সিস্টেমে হস্তক্ষেপ করে গন্তব্য পরিবর্তন করাও সম্ভব।

ইউক্রেনের সামরিক তথ্যের এএফপি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত ইলেকট্রনিক যুদ্ধের মাধ্যমে ৪,৬৫২টি আক্রমণকারী ড্রোন নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, যা ভূপাতিত ৬,০৪১টির সংখ্যার কাছাকাছি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ড্রোনগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরক্ষার জন্য ইলেকট্রনিক ও প্রচলিত উভয় ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102