স্পেনের জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ টেনেরিফে গত সপ্তাহে একযোগে ৮৪টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
দেশটির ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক ইনস্টিটিউট (আইজিএন) জানিয়েছে, দ্বীপটির লাস কানাডাস অঞ্চলের পশ্চিমাংশে এসব ভূকম্পন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৫৯টি কম্পনের সুনির্দিষ্ট অবস্থান নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যেগুলো মূলত মাউন্ট টেইড আগ্নেয়গিরির আশপাশে সংঘটিত হয়েছে।
ভূমিকম্পের উল্লেখযোগ্য দুটি ধাপ ছিল নিম্ন-ফ্রিকোয়েন্সির কম্পন। প্রথমটি শনিবার ভোর ১টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এবং দ্বিতীয়টি রোববার সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ঘটে। কম্পনগুলো ভূ-পৃষ্ঠের প্রায় ৮ থেকে ২১ কিলোমিটার গভীরে সৃষ্টি হয়েছে এবং এর মাত্রা ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
তবে আইজিএন জানিয়েছে, এই সংখ্যা এখনও প্রাথমিক এবং পরবর্তীতে তা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে তারা আশ্বস্ত করেছে যে, এ ধরনের ভূকম্পন নিকট ভবিষ্যতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি বাড়ার ইঙ্গিত দেয় না।
এরই মধ্যে সান্তা ক্রুজ ডি টেনেরিফ কাউন্সিল সম্ভাব্য অগ্ন্যুৎপাতের কথা বিবেচনায় রেখে একটি ‘কন্টিনজেন্সি প্ল্যান’ বা জরুরি প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়ন শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, স্পেনের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট টেইড সর্বশেষ ১৯০৯ সালে অগ্ন্যুৎপাত ঘটায়। সাম্প্রতিক ভূকম্পনগুলোর পর পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিজ্ঞানীরা।