ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফেসবুক পোস্ট দিয়ে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে আছিম পাটুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার আছিম পাটুলি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন ১০০ টাকায় নেওয়ার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে বুধবার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ফেসবুক আইডি থেকে আবেদনের বিষয়ে একটি পোস্ট দেওয়া হয়।
ওই ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করতে কোনো ফরমের প্রয়োজন নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং স্ব-হস্তে স্বাক্ষর থাকলেই আবেদন করা যাবে। এছাড়া উল্লেখ করা হয়, শুধুমাত্র নারীরা আবেদন করতে পারবেন। পোস্টে আরও বলা হয়, অফিসিয়াল কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি, তবে অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম চলছে। এরপর বৃহস্পতিবার ইউপি কার্যালয়ে নারীরা আবেদন করতে আসেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সারাদেশে নারীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জেলার নান্দাইল উপজেলাসহ ১৪টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তবে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাম না থাকলেও উপজেলার আছিম পাটুলি ইউনিয়নে প্রচারণার মাধ্যমে আবেদন নেওয়া শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আবেদন করতে আসা বাশদী গ্রামের রুবি আক্তার জানান, তিনি শুনেছেন ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন শুরু হয়েছে। তাই ১০০ টাকা নিয়ে আবেদন করতে এসেছেন। চেয়ারম্যানের ভাতিজা তার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, কিন্তু কোনো ফরম দেননি।
আছমা আক্তার বলেন, তিনিও শুনেছেন ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করা হচ্ছে। তাই আবেদন করতে এসেছেন। তবে আবেদন করার সরকারি নির্দেশনা আছে কি না, তা তিনি জানেন না।
আছিম পাটুলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের বিষয়টি তার জানা ছিল না। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, ২০টি আবেদন করা হয়েছে। যারা আবেদন করেছেন, তাদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
নির্দেশনা ছাড়া কীভাবে আবেদন নেওয়া হচ্ছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর শান্ত আবেদন নিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন নেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।