মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি দরিদ্র জেলে পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, আসবাবপত্র ও খাদ্যসামগ্রীসহ ঘরের সব মালামাল ভস্মীভূত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, এ ঘটনায় প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বড় রায়পাড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো জেলে দাদন বেপারী, তার ছেলে কামাল বেপারী এবং ভাতিজা মাসুম বেপারীর পরিবার। পাশাপাশি থাকা তিনটি টিনশেড বসতঘর মুহূর্তের মধ্যে আগুনে গ্রাস হয়ে যায়।
প্রতিবেশী শামসুল ইসলাম জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে স্থানীয় মসজিদের মাইকে দাদন বেপারীর বাড়িতে আগুন লাগার ঘোষণা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে এলাকাবাসী ছুটে এসে দেখেন দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। ঘরগুলো পাশাপাশি থাকায় অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন অন্য ঘরগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কেউ ঘরের কাছে যেতে পারেননি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দাদন বেপারীর স্ত্রী আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, রাতে নাতনিকে নিয়ে কোরআন শরিফ পড়ছিলাম। হঠাৎ শুনি আগুন লেগেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ঘরে থাকা গহনা, খাবার, আসবাবপত্র, নগদ টাকা—সব পুড়ে গেছে। পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই রইল না।
তিনি আরও জানান, তার স্বামী, ছেলে ও ভাতিজা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে কেনা স্বর্ণালঙ্কারসহ মাছ শিকারের জাল আগুনে নষ্ট হয়ে গেছে।
গজারিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার ফিরোজ মিয়া জানান, খবর পেয়ে দ্রুত দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। সরকারি বিধি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
এদিকে, অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।