গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যৌতুকের দাবিতে শারীরিক নির্যাতন ও বিষ খাইয়ে নুসরাত হোসেন সানজিদা ওরফে তন্বী (১৮) নামের এক নববধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী আরিফুল খান ও তার পরিবারের লোকজন পলাতক।
এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের চর গোপালপুর গ্রামে। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূ মারা যান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের চর গোপালপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের মেয়ে নুসরাত হোসেন সানজিদা ওরফে তন্বীর সঙ্গে একই গ্রামের জাফর খানের ছেলে আরিফুল খানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ১৫ দিন আগে ওই ছেলে রাতের বেলায় তন্বীর সঙ্গে দেখা করতে এলে গ্রামের লোকজন ধরে তাদের বিয়ে দিয়ে দেয়। তার পর থেকে তন্বীকে আরিফুল শ্বশুরবাড়ি নেয়নি। রোববার তন্বী নিজের ইচ্ছায় তার শ্বশুরবাড়িতে চলে যায়।
নিহত তন্বীর বাবা জাহাঙ্গীর খান বলেন, পরদিন সোমবার তন্বী বাড়িতে এসে বলে, আমার নামে দুই বিঘার একটি জমি লিখে দিতে বলেছে শ্বশুরবাড়ি লোকজন। এরপর আমার মেয়ে আবারও শ্বশুরবাড়ি চলে যায়। মঙ্গলবার সকালে আমার মেয়েকে বিষ খাওয়া অবস্থায় আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে যায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসি। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকেলে আমার মেয়ে মারা যায়। আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করে ও বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আরিফুল খানের বাড়িতে গেলে ঘরটি তালাবদ্ধ ও মোবাইল বন্ধ করে পালিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। তাই তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি মো. আইয়ুব আলী বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রয়েছে। তবে মেয়ের পরিবারের লোকজন এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।