শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য বিশেষ আর্থিক অনুদান কার্যক্রম শুরু করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় দেশের সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দরিদ্র, মেধাবী ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা এককালীন ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ সহায়তা পাবেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এ আবেদন শুরু হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। আবেদন চলবে ১৭ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত।
কারা পাবেন এই অনুদান?
অনুদান প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে সেই শিক্ষার্থীদের, যারা দরিদ্র বা পরিবারের আর্থিক অবস্থা সঙ্কটাপন্ন, মেধাবী এবং/অথবা প্রতিবন্ধী। শিক্ষা পর্যায়ের ভিত্তিতে অর্থ সহায়তার পরিমাণ ভিন্ন হবে—
স্নাতক ও তদুর্ধ্ব পর্যায়: ১০,০০০ টাকা
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়: ৯,০০০ টাকা
মাধ্যমিক পর্যায়: ৮,০০০ টাকা
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান উভয় শিক্ষার্থী এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। বিশেষত যেসব শিক্ষার্থী দৈনন্দিন পড়াশোনা চালাতে আর্থিকভাবে সমস্যার মুখোমুখি, তাদের জন্য এই অনুদান কার্যত একটি বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
আবেদনের সময়সীমা
অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের মনে রাখার বিষয়, আবেদন করতে হলে ১৭ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সময় রয়েছে। সময়সীমার পর কোনো আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না। এই কারণে শিক্ষার্থীদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কিভাবে আবেদন করবেন
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনে। শিক্ষার্থীদের জন্য পদক্ষেপগুলো সহজভাবে নিচে তুলে ধরা হল—
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (www.shed.gov.bd) অথবা মাইগভ পোর্টাল-এ প্রবেশ করুন।
‘আর্থিক অনুদানের আবেদন’ লিংকে ক্লিক করুন।
নাম, এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
নির্ধারিত ফরমে সঠিক তথ্য পূরণ করুন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন।
শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া করা সহজ, তবে সঠিক তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করা বাধ্যতামূলক।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট
আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের নীচের ডকুমেন্টগুলো স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে—
প্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্র: শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত ছাত্র/ছাত্রী—এই মর্মে স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্র।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য: বৈধ ‘প্রতিবন্ধী সনদ’।
দুরারোগ্য ব্যাধির ক্ষেত্রে: চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র বা মেডিকেল সনদ।
অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্যযুক্ত আবেদন বাতিল হবে।
টাকা পাওয়ার পদ্ধতি
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশের পর অনুদানের অর্থ সরাসরি শিক্ষার্থীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। ব্যবহারযোগ্য পদ্ধতি: নগদ বা বিকাশ। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের কোনো ব্যাংক শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই, পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল ও নিরাপদ।
বিশেষ পরামর্শ
আবেদন ফরম পূরণের সময় শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকা জরুরি। ভুল তথ্য বা অসম্পূর্ণ ফরম গ্রহণযোগ্য হবে না।
যারা প্রতিবন্ধী বা বিশেষ সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি সনদ সংযুক্ত করতে হবে।
সময়মতো আবেদন করলে অনুদান দ্রুত প্রাপ্তি সম্ভব হবে।
সরকার জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় সহায়তা করার পাশাপাশি সামাজিক সমতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে আর্থিক চাপে সহায়তা করা এবং তাদের পড়াশোনাকে অব্যাহত রাখা এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।