রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিক্ষকদের হালাল-হারাম দেখিয়ে দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমরা হালাল-হারাম বিষয়ে সাধারণত শুধু জবাই করা মাংসকেই ভাবি। খাবারের ক্ষেত্রে এ বিষয় নিয়ে সচেতন থাকি, কিন্তু জীবনের অন্য গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র যেমন দায়িত্ব, সততা ও কর্মপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সেই ভাবনা রাখি না। আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্বভাবে ভাবা উচিত

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকার প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমি যখন প্রতিমন্ত্রী ছিলাম তখন একটি মিটিংয়ে নোয়াখালী গিয়েছিলাম, তখন শূন্যপাস মাদরাসা শিক্ষকদের সঙ্গে মিটিং হয়েছিল। তখন আমি একজন মাদরাসা সুপারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ধরুন একজন শ্রমিকের মজুরি দিনে ১০০ টাকা। সে দিনে ৫০ টুকরা মাটি কাটবেন। যদি ৫০ টুকরা না হয় ৪০ টুকরা কাটবেন। কিন্তু সে যদি এক টুকরাও মাটি না কাটেন তাহলে তাকে ১০০ টাকা দেওয়া কি হালাল না হারাম? তারা কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

তিনি চলেন, মাদরাসা থেকে আপনাকে বেতন দেওয়া হলো। অথচ একজন ছাত্রও পাস করলেন না তাহলে ওই পয়সা কি হালাল ছিল? আমরা হালাল-হারাম বলতে শুধু জবাই করা মাংসকে মনে করি। আমরা মুখে অনেক কথা বলি, এটা খেতে পারি, ওটা খেতে পারি। খাওয়ার সময় হালাল-হারাম উঠছে কিন্তু অন্য জায়গায় চিন্তা করছি না। আমরা সবাই নিজগুণে চিন্তা করব, আমার দায়িত্বটা কি?

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকরা বলেন তাদের বেতন নেই, সুবিধা নেই কিন্তু ফলাফলের কথা কেউ বলছে না। আমরা যদি পুরানো দিনে চলে যাই, তখন দেখব শিক্ষকরা কেউ চাহিদার কথা বলতেন না। তারা বলতেন, তাদের সন্তানরা যেনো উচ্চ শিক্ষিত হয়। শিক্ষকতার স্বার্থকতা তখনই যখন তার সন্তান ও শিক্ষার্থীরা প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষকতায় আমাদের আত্মনিয়োগ করতেই হবে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের সবাইকে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে হবে। আপনি ক্লাসরুমে গিয়েছেন আধাঘণ্টা ক্লাস করার জন্য, আপনি প্রতিদিন চিন্তা করবেন আমাকে সরকার দায়িত্ব দিয়েছে, নিজে দায়িত্ব নিয়েছি শিক্ষকতা করার জন্য- আমার প্রতিদিন কতটুকু কাজ করার দেশ গঠনে- মানব সম্পদ তৈরি করতে- এই প্রশ্ন যদি নিজেকে না করেন, শুধু সময় কাটিয়ে চলে আসেন, এটা কি নৈতিক দুর্নীতি নয়? আমি পাঁচ বছর প্রতিমন্ত্রী ছিলাম। কেউ আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দিতে পারেনি।

তিনি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কনসালটেশন কমিটি অনেক আলোচনা করে, কিন্তু প্রকল্প আসে, প্রকল্প যায়, শিক্ষাক্ষেত্রে তেমন পরিবর্তন আসে না। এমনকি আজকের দিনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজেদের সন্তানকে স্থানীয় স্কুলে পাঠান না। তারা জেলা শহরে বাসা নিয়ে সেখানকার স্কুলে ভর্তি করান।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102