শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন

হবিগঞ্জ-১ আসনে বিদ্রোহী ৬০, রেজার কেন্দ্রে ৩৩ শতাংশ ভোট

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সকাল সাড়ে ৭টায় সারাদেশের মতো নবীগঞ্জেও ভোটগ্রহণ শুরু হয়। দিনের শুরুতে নবীগঞ্জের একটি কেন্দ্রে বিএনপির এক প্রবাসী নেতার সঙ্গে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বচসা এবং পরবর্তীতে যৌথ বাহিনীর হাতে তার গ্রেপ্তারের ঘটনা আলোচনায় আসে। তবে এ ছাড়া আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

উপস্থিতি কম

নবীগঞ্জ-বাহুবলের প্রায় ৩০টি ভোটকেন্দ্র ঘুরে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দেখা যায়, অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল কম। তবে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা ও বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়ার নিজস্ব এলাকায় ভোটের হার তুলনামূলক বেশি ছিল।

চরগাঁও শেখ আমিনা বিবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিকেল ৩টা ২ মিনিট পর্যন্ত ১ হাজার ৭৭৭ ভোটের মধ্যে ১ হাজার ১০২টি ভোট কাস্ট হয়, যা প্রায় ৫৮ শতাংশ। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হোসেন ঈমাম জানান, প্রার্থীর বাড়ি হওয়ায় ওই কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বেশি ছিল।

অন্যদিকে, বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রেজা কিবরিয়ার বাড়ির কেন্দ্র গোপলার বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট পড়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। এ চিত্র বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটের চিত্র

ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর কেন্দ্রে সকাল ১১টা ২১ মিনিট পর্যন্ত ৩ হাজার ১৮৪ ভোটারের মধ্যে ভোট পড়ে ২৬০টি। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে লন্ডনপ্রবাসী বিএনপি নেতা গোলাম রসুল রাসেল আলোর স্বল্পতার অভিযোগ তুললে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সুরেশ্বর রায়ের সঙ্গে তার বচসা হয়।

তাহিরপুর নয়মৌজা সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে দুপুর ১টা ১০ মিনিট পর্যন্ত ৩ হাজার ১৭৯ ভোটারের মধ্যে ৬৫০ জন ভোট দেন। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম জানান, সেখানে ভোটের হার ছিল ২২ শতাংশ।

ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৪ হাজার ৯৮৩ ভোটারের মধ্যে ৯৫০টি ভোট পড়ে, যা ২২ শতাংশ। কুর্শি বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২ হাজার ৫৭৬ ভোটের মধ্যে ৬৬৯টি ভোট কাস্ট হয় (২৬ শতাংশ)।

ভোটার ও প্রার্থীপক্ষের প্রতিক্রিয়া

চরগাঁও গ্রামের তরুণ হাবিবুল হাসান মিসবা জানান, তিনি প্রথমবার ভোট দিতে এসেছেন এবং অন্যদের ভোট দিতে উৎসাহিত করছেন। ফরিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা জয়নাল মিয়া বলেন, সকাল ১০টার দিকে গিয়ে কেন্দ্র প্রায় ফাঁকা দেখেছেন।

একাধিক প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, কেন্দ্রে কোনো চাপ বা অনিয়ম ছিল না এবং ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিয়েছেন।

তবে রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়া অভিযোগ করেন, বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের বাধা দেওয়া হয়েছে এবং হুমকির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বাহুবলের ভাদেশ্বরে ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102