মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন

বাকি ৯ দিন, তবু কেন নির্বাচন নিয়ে সংশয়?

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি মাত্র আর ৯ দিন। সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচন নিয়ে জনমনে নানা ধরনের সংশয়। অনেকের মনে প্রশ্ন দানা বেঁধেছে নির্বাচন হওয়া না হওয়া নিয়ে।

গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নতুন চিন্তাধারার সূচনা হয়েছে- যাকে ঘিরে নানা প্রশ্নও উঠছে। আসন্ন নির্বাচনকে স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন তাগিদ ও আহ্বান জানিয়ে আসছে। সরকারপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে কোনো রোষানল, দলীয় কোন্দল কিংবা তৃণমূল পর্যায়ের সংঘাত থাকবে না। নির্বাচন হবে সর্বজনীন ও অংশগ্রহণমূলক।

ভোটের ইতিহাসে তাকালেই ভয়ানক ও বৈচিত্র্যময় নানা ঘটনার চিত্র ভেসে ওঠে। তবে এবারের নির্বাচন ঘিরে জনসাধারণের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের ভিন্নতর উদ্দীপনা। হাসিনা সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত প্রায় তিনটি নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি, নিজেদের ভোটাধিকার নিয়েও কথা বলতে পারেনি। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং রাজনীতি ও নির্বাচনী ব্যবস্থাকে আধুনিক করার লক্ষ্যেই গঠন করা হয় অন্তর্বর্তী সরকার। আর সেই সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবারের জাতীয় নির্বাচন।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশে এই প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে—তা নয়। ১৯৯০ সালে ছাত্র-জনতা ও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্দোলনের মুখে স্বৈরশাসক এরশাদের টানা ১০ বছরের শাসনের পতন ঘটে। সেই গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালে বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে তিন মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যা জনগণের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা, প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই, আপিল এবং চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ—এসব নিয়ে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন শোনা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল প্রার্থীদের দ্বৈত নাগরিকত্ব ও ঋণখেলাপি হওয়ার অভিযোগ।

এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে দেশজুড়ে ২৭৪টি সহিংস ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত বছরের ১২ ডিসেম্বর থেকে ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে আগের তিনটি জাতীয় নির্বাচনের সহিংসতার পরিসংখ্যানের তুলনাও তুলে ধরা হয়, যেখানে দেখা যায়—সেসব নির্বাচনে সহিংসতার মাত্রা আরও বেশি ছিল।

দেশের ইতিহাসে এই প্রথম আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় দলটি এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। নিষেধাজ্ঞার কারণে আওয়ামী লীগ নির্বাচনবিরোধী প্রচার-প্রচারণা কিংবা নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন অনেকে।

আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতির পাশাপাশি বর্তমান সরকার নিয়েও জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষক ও সাংবাদিক রাফসান গালিবের মতে, ক্ষমতায় থাকা কেউ কেউ হয়তো তাদের ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন। তাঁর ভাষায়, সব সরকারেই এমন একটি পক্ষ থাকে, যারা ‘ক্ষমতার স্বাদ’ সহজে ছাড়তে চায় না।

এবারের নির্বাচনকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হচ্ছে—চোরাগোপ্তা হামলা, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার ও নাশকতা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এমন শঙ্কার কথা জানিয়েছে।

পুলিশ ও র‍্যাবের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচন বানচাল করতে আগ্রহী একটি গোষ্ঠী চোরাগোপ্তা হামলা ও নাশকতার মাধ্যমে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মূল লক্ষ্য হবে নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটানো এবং ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে দেওয়া।

নির্বাচন বানচালের আশঙ্কা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত বা বানচাল করার যেকোনো অপচেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর হাতে দমন করবে।

নির্বাচন নিয়ে সংশয় আছে কি না—এ প্রশ্নে সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ বলেন, ‘এই মুহূর্তে নির্বাচন না হওয়ার বিষয়ে আমার তেমন সংশয় নেই। তবে নির্বাচনের পর সরকার গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আমার কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।’

সংস্কার নাকি আগে নির্বাচন—এ নিয়েও চলছে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, যারা নির্বাচন চান, তারা সংস্কারবিরোধী। অন্যদিকে সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকার নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করেছিল। কমিশনের সুপারিশে দেখা যায়, বর্তমান বেতন কাঠামোকে দ্বিগুণের বেশি করে নতুন স্কেলের প্রস্তাব করা হয়েছে।

এসব নানাবিধ প্রশ্ন থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সংশয় তৈরি হচ্ছে। জনমনে তৈরি হচ্ছে শঙ্কা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102