সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০২:১৮ পূর্বাহ্ন

‘জাস্ট ম্যারি মি’, এপস্টেইনকে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর স্ত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সম্প্রতি প্রকাশিত ই-মেইলগুলো ব্রিটিশ রাজপরিবারের জন্য নতুন করে চরম অস্বস্তি ও লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নথিতে প্রিন্স অ্যান্ডুর প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসন (যিনি ‘ফার্গি’ নামে পরিচিত) এবং তাঁদের দুই কন্যা প্রিন্সেস বিয়াট্রিস ও ইউজেনির নাম বারবার উঠে এসেছে।

প্রকাশিত ই-মেইলগুলোতে দেখা যাচ্ছে, এপস্টেইনের সঙ্গে সারা ফার্গুসনের বন্ধুত্ব ছিল অত্যন্ত গভীর। ২০০৯ সালের একটি ই-মেইলে সারা এপস্টেইনকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘আমার মেয়েদের সামনে তুমি আমাকে যে প্রশংসা করেছ, তাতে আমি অভিভূত। জেফরি, তুমি আমার সেই ভাই যার অভাব আমি সারা জীবন অনুভব করেছি।’ ২০১০ সালের অন্য একটি বার্তায় তিনি এতটাই উচ্ছ্বসিত ছিলেন যে রসিকতা করে লিখেছিলেন, ‘তুমি একটা কিংবদন্তি। তোমার দয়ার জন্য আমি কৃতজ্ঞ…জাস্ট ম্যারি মি (আমাকে বিয়ে করে ফেলো)!’

নথিতে ফার্গুসনের আর্থিক সংকটের চিত্রও ফুটে উঠেছে। ২০০৯ সালে একটি ব্যবসায়িক বিপর্যয়ের পর তিনি এপস্টেইনের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ২৭,৫০০ ডলার) ঋণের আবেদন করেন। ই-মেইলে তিনি জানান, বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় বাড়িওয়ালা পত্রিকায় গিয়ে তথ্য দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এপস্টেইনও দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তাঁকে আর্থিক সহায়তা করার দাবি করেছেন।

ই-মেইলগুলো প্রমাণ করে, ব্রিটিশ উচ্চবিত্ত সমাজের একেবারে কেন্দ্রে এপস্টেইনের যাতায়াত ছিল অবাধ। সারা ফার্গুসন নিজেই এই সুযোগ করে দিতেন বলে মনে করা হচ্ছে। ২০১০ সালে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ৫০ তম জন্মদিনের পার্টিতে যোগ দেওয়ার জন্য এপস্টেইনকে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল সারা ফার্গুসনের পক্ষ থেকে। এমনকি বাকিংহাম প্যালেস বা উইন্ডসর ক্যাসেলে চা-চক্রের আয়োজন করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।

এই নথিতে প্রিন্সেস ইউজেনির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে করা কিছু কুরুচিকর মন্তব্যও প্রকাশ্যে এসেছে। এগুলো রাজপরিবারের সদস্যদের জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর। একটি ই-মেইলে ইউজেনির ব্যক্তিগত ভ্রমণের কথা উল্লেখ করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছেন স্বয়ং সারা ফাগুসন। যদিও এই ই-মেইলগুলো সরাসরি সারা ফার্গুসন লিখেছিলেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

সারা ফার্গুসন যখন এপস্টেইনকে প্রশংসায় ভাসিয়ে দিচ্ছিলেন, তখন এপস্টেইন আড়ালে তাঁকে নিয়ে উপহাস করতেও ছাড়েননি। ২০১১ সালে প্রিন্সেস বিয়াট্রিসের গ্রাজুয়েশন অনুষ্ঠানের একটি ছবি দেখে এপস্টেইন বিদ্রূপ করে লিখেছিলেন, ‘ফার্গির এই ছবি মোটেও দেখার মতো নয়।’

২০০৮ সালে এপস্টেইন কিশোরী পাচারের দায়ে দণ্ডিত হওয়ার পরেও এই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু এবং সারা ফার্গুসনের প্রতিনিধিরা কোনো প্রকার অন্যায়ের কথা অস্বীকার করেছেন। তবে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ‘ইয়র্ক’ ব্র্যান্ড যে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। এর মধ্যেই খবর পাওয়া গেছে, অ্যান্ড্রুকে শিগগিরই তাঁর রাজকীয় আবাস ‘রয়্যাল লজ’ ত্যাগ করতে হবে। একাধিক দাতব্য সংস্থা ইতিমধ্যেই সারা ফার্গুসনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। বিয়াট্রিস ও ইউজেনির ভবিষ্যৎ নিয়েও এখন বড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102