ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে জিরো টলারেন্স নীতিতে চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজ নির্মূল হবে। তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিবাজদের জন্য এই বাংলাদেশে আর কোনো জায়গা থাকবে না।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকার শ্যামপুরে নির্বাচনি পথসভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, জামায়াতে ইসলামীতে সাবেক আমির শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ আলী আহসান মুজাহিদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত এক পয়সারও দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়নি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীতে দুর্নীতি নেই, আর দুর্নীতির কোনো স্থানও নেই। ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হবে, দুর্নীতি নয়।
তিনি বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দুই ধরনের নেতা দেখা যায়। এক ধরনের নেতা শুধু কথা বলে, কিন্তু কাজ করে না। আরেক ধরনের নেতা কাজ করে এবং আরও কাজ করতে চায়। স্বাধীনতার ৫৪ বছরে যারা আমাদের নেতা হয়েছেন, তারা অনেক সময় আমাদের প্রতারিত করেছে। এবারের নির্বাচনে আর ভুল করা যাবে না।
ডাকসু ভিপি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, যারা আপনাদের ধোঁকা দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে নিজের বিবেক ব্যবহার করুন। ইনসাফের প্রতীক ভোটের মাধ্যমে তাদের যাচাই করুন। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে এমপি-মন্ত্রীরা শাসক নয়, সেবক হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
সাদিক কায়েম বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে স্বাধীনতা; ‘না’ মানে জনগণ গোলামে পরিণত হবে। যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বললেও আড়ালে অন্য নীতি অনুসরণ করছে, তাদের বিশ্বাস করা যাবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ১১-দলীয় জোট সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি মজলুম সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। বিদেশে থাকা নেতারা দেশে ফিরে এখন নতুন করে ধোঁকা দিতে চাচ্ছে। আমরা চাই জনগণ তাদের প্রকৃত কার্যক্রম মূল্যায়ন করুক।
তিনি বলেন, ঢাকা-৪ সংসদীয় এলাকায় বিদ্যমান সমস্যা গ্যাস সংকট, যাতায়াত, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যসেবা সমাধানের জন্য সততা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন। সরকার গঠনের পর জামায়াতে ইসলামী এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে।
সভায় ঢাকা-৪ আসন কমিটির পরিচালক আব্দুর রহিম সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া স্থানীয় ১১-দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।