জামায়াত নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। আমরা একটা ইসলামি দল। তবে নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবে না বলে জানিয়েছেন দলটির মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিককের এ কথা জানান তিনি।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জামায়াতের মহিলা শাখার চার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নারী শাখার সদস্য মারজিয়া বেগম ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বৈঠকে অংশ নেন।
নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, ‘নারী শীর্ষ পদে থাকলেই একটা কিছু হবে এটা ঠিক নয়। এর আগে দুই জন নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, কিন্তু নারীর কোনো উন্নয়ন হয়নি। জামায়াত নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী।’
জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বলেন, ‘আমরা লোকাল ইলেকশনে নারী প্রার্থী দিচ্ছি এটা কিন্তু প্রমাণিত। পরবর্তীতে নারীরাও জামায়াতের ভালো পদে আসবে। পরবর্তী সময়ে নারীরা সংসদ ভোটে সরাসরি লড়াই করবে।’
তিনি বলেন, ‘ভোটের প্রচারে গিয়ে আমাদের নারী সদস্যরা আক্রমণের শিকার হয়েছেন। নারী কর্মীরা যখন ভোটের প্রচারণায় যাচ্ছেন তখন একদল লোক হুমকি দিচ্ছেন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা। সাইবার সিকিউরিটি আইনে প্রস্তুতি নিয়েছি। এ ধরনের কার্যক্রম এবং দলের শীর্ষ নেতার আইডি হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হচ্ছে।’
জামায়াতের নারী নেত্রীরা বলেন, ‘এই প্রথম জামাতের মহিলা উইং থেকে আমরা নির্বাচন কমিশন এসেছি। সারা বাংলাদেশে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে হামলা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। বাংলাদেশে ফিফটি পার্সেন্ট নারী। আমরা সুষ্ঠু একটা পরিবেশে ভোট দিতে চাই। এই বোনদের প্রতিহত করতে গভীর স্বরযন্ত্র করছে।’
তারা বলেন, ‘আমাদের ৫০ পার্সেন্ট আমরা রিপ্রেজেন্ট করছি। এই অর্গানাইজেশনে আমাদের অধিকার দিচ্ছে, আমাদের সম্মান দিচ্ছে। আমাদের মেয়েদের মধ্যে কাজ হচ্ছে। আমরা লিডারশিপ দিচ্ছি। আমরা ট্রেনিং নিচ্ছি। কিছু মহল এই অ্যাক্টিভিটি পছন্দ করছে না। তাই প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ওপর হামলা করছে। আমরা কোনো খারাপ কাজ করছি না। একটা সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ করে দেওয়ার জন্য ইসির কাছে দাবি জানিয়েছি।’
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাড. এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন।