চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ক্যান্সার আক্রান্ত আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহমান (৭০) মারা গেছেন।
শনিবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আব্দুর রহমান কোতোয়ালি থানার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪৯(০৯)/২৪ নম্বর মামলার হাজতি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছিলেন।
মৃত আব্দুর রহমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত চট্টগ্রাম নগরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড দক্ষিণ আগ্রাবাদ আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন। তিনি ডবলমুরিং থানাধীন উত্তর আগ্রাবাদ মুহুরী পাড়ার সিপাহী বাড়ির বাসিন্দা ও মৃত জইন উদ্দিন দরফ আলীর ছেলে।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, আব্দুর রহমান গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ সালে কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় হাজতি হিসেবে কারাগারে প্রবেশ করেন। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ২৬ ডিসেম্বর তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে ভর্তি করা হয়। ডিসেম্বর মাসজুড়ে একাধিকবার তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আনা-নেওয়া করা হয়।
প্রায় এক মাস চিকিৎসা শেষে গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ সালে তাকে ছাড়পত্র দিয়ে পুনরায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। তবে হাসপাতালের ছাড়পত্র অনুযায়ী তার শরীরে ফুসফুসের ক্যান্সার থেকে মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়া রোগ (Carcinoma lung with brain metastasis) শনাক্ত হয়। এ ছাড়া তিনি উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য জটিল রোগেও আক্রান্ত ছিলেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ সালে তাকে আবারও চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে স্থানান্তর করা হবে।’