গৃহযুদ্ধে জর্জরিত সুদানের দক্ষিণ করদোফান প্রদেশের ডিলিং শহরে প্যারামিলিটারি র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের (আরএসএফ) ড্রোন হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে।
সুদান ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ডিলিংয়ের বিভিন্ন এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে দেশটির সেনাবাহিনীর ৫৪তম ব্রিগেডের সদর দপ্তর ও কেন্দ্রীয় বাজারে আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্র ও চিকিৎসা সংস্থাগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গতকাল বুধবার সরকারপন্থি সুদান সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) ঘোষণা করেছিল যে তারা প্রায় দুই বছর ধরে আরএসএফ-এর অবরোধের মধ্যে থাকা ডিলিং শহর থেকে নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে এনেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ পথগুলো পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
ডিলিং শহরটি রাজ্য রাজধানী কাদুগলির এবং পার্শ্ববর্তী নর্থ করদোফান প্রদেশের রাজধানী এল-ওবেইদের মধ্যে অবস্থিত, যেখানে আরএমএফ শহরকে ঘিরে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে।
আরএসএফ এবং এসএএফ ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক কঠোর গৃহযুদ্ধ চালছে, যার কারণে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অবরোধ উঠে যাওয়ার পর থেকে ডিলিং শহরে ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে।
সেনা সূত্র জানিয়েছে যে আরএসএফ পুনরায় অবরোধ কার্যকর করতে চাইছে, যদিও এসএএফ এখনো এলাকাটি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং উত্তর করদোফান প্রদেশের কৌশলগত শহর হাবিলার কাছাকাছি হামলা প্রতিহত করছে।
এই সহিংসতার মধ্যে সুদান ডাক্তার নেটওয়ার্ক জরুরি হিউম্যানিটারিয়ান করিডর প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে জীবনরক্ষা খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্যসেবা অত্যন্ত সীমিত এবং মৌলিক সরবরাহ, বিশেষ করে ইনট্রাভেনাস ফ্লুইডের, তীব্র সংকটে রয়েছে।
আরএসএফ মার্চে খার্তুম থেকে বের হওয়ার পর করদোফান অঞ্চল এবং নর্থ ডারফুরের এল-ফাশের শহরে তাদের দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত করেছে। এল-ফাশ দখলের পর সহিংসতায় গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ এবং লুটপাটের অভিযোগ ওঠে, যার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি) উভয় পক্ষের ‘যুদ্ধাপরাধ’ তদন্ত শুরু করেছে।