সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৪৮ পূর্বাহ্ন

ইরানে হামলা করলেই ‘ভয়ংকর’ বিপদ যুক্তরাষ্ট্রের

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও যুদ্ধের শঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে। তেহরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরাক ও ইয়েমেনের ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশেষ করে ইরাকের শক্তিশালী গোষ্ঠী কাতায়িব হিজবুল্লাহ এক বার্তায় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় তবে তারা সর্বাত্মক যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত।

গোষ্ঠীটির নেতা আবু হোসেন আল-হামিদাবি এক বিবৃতিতে বলেন, এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর জন্য তারা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবেন যা হবে চরম যন্ত্রণাদায়ক। মার্কিন সেনাদের হৃদয়ে আতঙ্কের বীজ বুনে দেওয়া হবে।

এদিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে ফের জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর হুমকি দিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তারা লোহিত সাগরের একটি জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য দেখিয়ে খুব শীঘ্রই বড় ধরনের হামলার ইঙ্গিত দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন যখন ইরানি কর্মকর্তাদের টার্গেট করে হামলা চালানোর ছক আঁকছে, তখন এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হুমকি ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ইরাক ও সিরিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ৫ হাজার সেনা সরাসরি হুমকির মুখে থাকলেও কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনের মতো দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তবে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এই সংঘাতে জড়াতে অনীহা প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূমি ব্যবহার করে ইরানে কোনো হামলা চালাতে দেবে না। এই পরিস্থিতিতে জর্ডানকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে ইতিমধ্যে বিপুল সংখ্যক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।

অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত এক বছরে ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর শক্তি ও অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ এক সময় ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে পরিচিত থাকলেও ইসরায়েলি হামলায় গোষ্ঠীটি বর্তমানে অনেকটাই দুর্বল। তাদের প্রধান হাসান নাসরুল্লাহ নিহত হওয়ার পর একটি অসম যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয়েছে তারা। দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের অস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো গত বছরের সংঘাতে সরাসরি অংশগ্রহণ না করায় তাদের সামরিক সক্ষমতা এখনো অটুট। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হিজবুল্লাহর পতনের পর ইরান এখন ইরাকি গোষ্ঠীগুলোর ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

এদিকে ইয়েমেনের হুথিরা এই অস্থিরতার মধ্যেও নিজেদের অবস্থান বেশ শক্ত রেখেছে। লোহিত সাগরে হামলার মাধ্যমে তারা মুসলিম বিশ্বে জনপ্রিয়তা পেলেও গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে পৌঁছেছিল। তবে বর্তমানে নতুন করে যুদ্ধের হুমকি সেই চুক্তির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ এবং ইরান-পন্থী গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা জবাব পুরো অঞ্চলকে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: মিডলইস্ট আই

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102