ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগদানের পর একটি নির্বাচনি সভাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত পাঁচ জনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদি ইউনিয়নের বাবলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ইস্রাফিল মোল্যা। অপর পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ওয়াদুদ মোল্যা, শাহাবুদ্দিন মোল্যা ও চান মিয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইস্রাফিল মোল্যা ও ওয়াদুদ মোল্যা—দুই গ্রুপের সদস্যরাই আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পাশের ঘারুয়া ইউনিয়নের গঙ্গাধরদি গ্রামে ফরিদপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুলের নির্বাচনি সভায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন।
ওই সভায় প্রার্থীর উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় ইস্রাফিল মোল্যা দীর্ঘ বক্তব্য দিলে ওয়াদুদ মোল্যা গ্রুপের সমর্থক শহিদুল ইসলাম শান্ত নামের এক যুবক বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে সভাস্থলেই দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।
এর ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুরে ইস্রাফিল মোল্যার ছোট ভাই জাকারিয়া মোল্যার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষ ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এতে জাকারিয়া মোল্যা (৩৭), জাহিদ মোল্যা (৩৮), লাভলী বেগমসহ (৪৫) আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জাকারিয়া মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, আগে থেকেই তারা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে ওয়াদুদ মোল্যা গ্রুপের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম জানান, আগের দিনের একটি সভায় বক্তব্য দেওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।