শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচনি ইশতেহার পাঠের অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৯০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন। এমন উত্তপ্ত পরিস্থতির মধ্যে শেরপুর জেলা বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আহ্বায় অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম এবং সদস্য সচিব এ বি এম মামুনুর রশিদ পলাশের নেতৃত্বাধীন শেরপুর জেলা বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ কমিটি স্থগিত থাকবে।
এর আগ, বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় শেরপুরের ঝিনাইগাতী স্টেডিয়াম মাঠে নির্বাচন কমিশনের আয়োজনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ’ অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষ চলাকালে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকেরা একে অপরের দিকে চেয়ার ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় পুরো স্টেডিয়াম এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়ে যায় এবং উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ঝিনাইগাতী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এলাকায় কঠোর নজরদারি বজায় রাখা হচ্ছে।