যুব সম্পর্কিত রাশিয়ার কেন্দ্রীয় সংস্থা রোসমোলোদেজের উদ্যোগে এবং ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টরেটের সহযোগিতায় দেশটির রাশিয়ার একাতেরিনবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল অব ইয়ুথ ২০২৬’।
আগামী সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনে বিশ্বের ১৯০টি দেশের ১০ হাজার তরুণ-তরুণী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। গত মঙ্গলবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে অনুষ্ঠিত আয়োজক কমিটির প্রথম বৈঠক থেকে এসব সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
আয়োজক কমিটি জানায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ডিক্রি অনুযায়ী, এই বৃহৎ আন্তর্জাতিক যুব আয়োজনটি ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়ার একাতেরিনবার্গ শহরে অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে, ‘নিজের স্বপ্ন অনুসরণ করো, রাশিয়ার সঙ্গে একত্রে’।
বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ডিরেক্টরেট কর্তৃক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল এক্সিকিউটিভ অফিসের প্রথম উপপ্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কোর সভাপতিত্বে গঠিত আয়জক কমিটিতে রয়েছেন প্রেসিডেন্সিয়াল প্রশাসন ও রুশ সরকারের প্রতিনিধি, ফেডারেল নির্বাহী সংস্থার কর্মকর্তারা, স্বনামধ্য রুশ কোম্পানির প্রধানরা, শীর্ষস্থানীয় রুশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেক্টররা এবং রুশ গণমাধ্যম ও সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধিরা।
এ বিষয়ে আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান এবং রুশ প্রেসিডেন্সিয়াল প্রশাসনের প্রথম উপপ্রধান সের্গেই কিরিয়েঙ্কো বলেন, আন্তর্জাতিক যুব উৎসবটি চলতি বছর একাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে বিশ্বের ১৯০টি দেশ থেকে ১০ হাজার তরুণ-তরুণী অংশ নেবে।
উৎসবের একটি নতুন বৈশিষ্ট্য হবে বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলোকে তাদের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্র অনুযায়ী গঠন করা। এই উৎসবে সৃজনশীল শিল্প, জনপ্রশাসন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া, উদ্যোক্তা, গণমাধ্যম এবং সামাজিক খাতের সেরা প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন, যারা ইতোমধ্যেই নিজ নিজ দেশ ও বিশ্বের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখছেন।
এ কারণেই উৎসবটিকে রাশিয়ার সেরা প্রকল্প ও কার্যকর অভিজ্ঞতা প্রদর্শনের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ নেতৃত্বের কাছে ‘আসল রাশিয়া’ তুলে ধরতে চাই যে, এটি একটি সীমাহীন সম্ভাবনার দেশ, যেখানে মানুষ স্বপ্ন দেখতে জানেন এবং সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষিত রাশিয়ার জনগণের ঐক্যের বছর’-এ এই উৎসবটি একটি সত্যিকারের ঐক্যবদ্ধ আয়োজন হয়ে উঠবে, যা বিশ্ববাসীর সামনে আমাদের দেশের জনগণের ঐতিহ্যের বৈচিত্র্য, সমৃদ্ধি ও স্বাতন্ত্র্য স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।
সের্গেই কিরিয়েঙ্কো আরও প্রস্তাব দেন, বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে আঞ্চলিক কর্মসূচি বা এক্সপেডিশন পরিচালনার প্রচলন অব্যাহত রাখার। তিনি বলেন, পশ্চিমা গণমাধ্যমের প্রচলিত স্টেরিওটাইপের বাইরে গিয়ে বিদেশি তরুণদের কাছে রাশিয়ার বাস্তব জীবন, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বহু জনগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় রুশ সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং সাংগঠনিক কমিটির উপসভাপতি দিমিত্রি চেরনিশেঙ্কো জানান, উৎসবে অংশ নেবেন ৫ হাজার রুশ অংশগ্রহণকারী, যার মধ্যে ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সি ১ হাজার শিশু-কিশোর থাকবে, এবং বিদেশ থেকে অংশ নেবেন আরও ৫ হাজার তরুণ। উৎসবের আয়োজন ও পরিচালনায় সহায়তা করবে ২ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের একটি দল।
তিনি বলেন, ‘বিদেশি প্রতিনিধিদলগুলোকে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমাদের সহকর্মীদের পূর্ব-অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর মাধ্যমে উৎসবের কর্মসূচির বিভিন্ন ট্র্যাক অনুযায়ী সবচেয়ে প্রতিভাবান ও সম্ভাবনাময় বিদেশি তরুণদের শনাক্ত করে আমন্ত্রণ জানানো সম্ভব হবে।’
রোসমোলোদেজের প্রধান এবং আয়োজক কমিটির নির্বাহী সচিব গ্রিগোরি গুরভ ইতোমধ্যে সম্পন্ন কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন এবং উৎসবের একটি খসড়া ধারণা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “দেখাতে চাই যে রাশিয়া এমন একটি দেশ, যেখানে প্রত্যেকে নিজের ডাক বা লক্ষ্য খুঁজে পেতে পারে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।
উৎসবের অংশগ্রহণকারীরা একসঙ্গে ভবিষ্যৎ বিশ্বের একটি রূপরেখা তৈরি করবে—যেখানে তরুণদের স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হবে। সিরিয়াসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ২০২৪-এর সফল অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে আমরা ‘বিশ্ব যুব নগরী’ ধারণাটি বাস্তবায়ন করছি। শুধু উৎসব প্রাঙ্গণেই নয়, বরং পুরো একাতেরিনবার্গজুড়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট ও উৎসব আয়োজন করা হবে, যাতে সৃজনশীলতা, ভাবনার বিনিময় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।”