বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জনগণের সরাসরি মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি ‘জনতার ইশতেহার’ নামে একটি ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। দলটির তথ্যানুযায়ী, এ পর্যন্ত প্ল্যাটফর্মে ৩৭ হাজারের বেশি মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজ পেজে বিষয়টি তুলে ধরেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।
জামায়াত আমির বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মতামত দিয়েছেন। এই প্রতিক্রিয়া দলের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, জনতার ইশতেহার প্ল্যাটফর্মে দেশের মানুষ বিভিন্নভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। জাতীয় খাতভিত্তিক, ৩০০টি সংসদীয় আসনভিত্তিক, পেশাভিত্তিক, অঞ্চল, শহর ও জেলাভিত্তিক বিভিন্ন প্রস্তাবনা এসেছে। লিখিত মতামতের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অডিও ও ভিডিও মতামতও আমাদের কাছে পৌঁছেছে। এগুলো মানুষের আশা, আকাঙ্ক্ষা, অনুভূতি ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে আরও জীবন্ত করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে যে, জামায়াতের ইশতেহার সত্যিকার অর্থে ‘জনতার ইশতেহার’। এটি জনগণের কণ্ঠস্বর, তাদের ভাবনা ও স্বপ্নের প্রতিফলন। ইনশাআল্লাহ, এই কণ্ঠস্বরের আলোকেই গড়ে উঠবে ন্যায়ভিত্তিক, জনবান্ধব ও দায়িত্বশীল বাংলাদেশ, উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াতের তথ্যানুযায়ী, ‘জনতার ইশতেহার’ বাংলাদেশের প্রথম প্রযুক্তিনির্ভর ও অংশগ্রহণমূলক ইশতেহার প্রণয়ন প্ল্যাটফর্ম। এখানে নাগরিকরা শুধু ভোটার নয়, বরং জাতীয় নীতিনির্ধারণের সহ-লেখক হিসেবে অংশগ্রহণ করছেন।
দলের দাবি, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি People-Powered, Data-Driven জাতীয় ইশতেহার তৈরি করা হবে, যেখানে জনগণের প্রতিটি মতামত, প্রস্তাবনা এবং অগ্রাধিকারই প্রণয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ছাড়া, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নাগরিকদের মতামত, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর টুলের সমন্বয়ে Specific, Measurable, Time-bound কাঠামোয় একটি অংশগ্রহণমূলক ইশতেহার প্রণয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জামায়াতের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণমূলক ইশতেহার প্রণয়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, যেখানে ভোটাররা নির্বাচনি ইশতেহারের সহ-লেখক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছেন।