বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ঢাকা-১৩ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, একটি দল প্রকাশ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে কথা বলে আবার ইনিয়ে-বিনিয়ে ‘না’-এর পক্ষে কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। এমন দ্বিচারিতা ও মোনাফেকি করে জাতিকে বিভক্ত করার চেষ্টা করা যাবে কিন্তু—আগামীর বাংলাদেশকে দাবায় রাখা যাবে না ইনশাআল্লাহ। মুনাফেকি আর ভাঁওতাবাজির রাজনীতি করে জাতির কাঙ্ক্ষিত মুক্তি অর্জন করা সম্ভব নয়।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, পরাজিত শক্তি চব্বিশের জুলাই বিপ্লবকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়াতে হবে। সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার জন্যই চব্বিশের নেতৃত্ব এবং বাংলাদেশের ইসলাম ও দেশপ্রেমিক শক্তি ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য গড়ে তুলেছে বাংলাদেশের পাহারাদারি করার জন্য। ৪৭, ৭১ এবং ২৪-এর বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে বিজয়ী হলে জীবন দিয়ে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করব। ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-১৩ আসনকে সাজাব।’
মোহাম্মাদপুর আদাবর ও শেরে বাংলা নগরকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, জুলুমবাজ ও মাদক মুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় আত্মপ্রত্যয়ীদের ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। রিকশা প্রতীক নিয়ে আমরা জনগণের দুয়ারে দুয়ারে আমরা যাব। ঢাকা-১৩ আসনে সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, ইনশাআল্লাহ বিভেদের রাজনীতির দিনশেষ, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ। আমরা যা করতে পারব, তা-ই বলব। যা বলব জীবন দিয়ে বাস্তবায়ন করব, ইনশাআল্লাহ।’
এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব হাফেজ আকরাম হুসাইন বলেন, ‘মামুনুল হকের সাথে একসাথে রিমান্ডে ছিলাম, নিজ চোখে দেখেছি কীভাবে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। যখন আমি শুনেছি ঢাকা-১৩ আসনে তিনি প্রার্থী, তখন থেকেই সিদ্ধান্ত ১২ তারিখে মামুনুল হককে বিজয়ী করতে হবে। উনি এমন মানুষ যাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়।’
১০ দলীয় নির্বাচনি লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক মুফতি আশরাফুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও মাওলানা নাঈমুল হক আজিজি, মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ ও মাওলানা আল আবিদ শাকিরের যৌথ পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী, ১০ দলীয় নির্বাচনি লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের শুরা সদস্য ডাক্তার শফিউর রহমান, এনসিপির যুগ্ম-সদস্য সচিব আকরাম হুসাইন, খেলাফত মজলিসের ঢাকা মহানগরের সদস্য মোতালেব খান, ৭১-এর বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, শাপলা চত্বরে শহীদের পিতা বাচ্চু মিয়া, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের শহীদের পিতা ফিরোজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মাওলানা ইলিয়াস হামিদী, লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দিকি, এনসিপির মোহাম্মদপুর থানার যুগ্ম সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট লুতফুল কবির, আবু সুফিয়ান, যুব মজলিসের সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা ফয়সাল আহমাদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হুসাইন রাজি, দক্ষিণের সভাপতি সানাউল্লাহ আমীন, যুব মজলিশের সভাপতি পরিষদের সদস্য মাওলানা জাকির হুসাইন প্রমুখ।