বুরকিনা ফাসোর জনপ্রিয় শাসক ক্যাপ্টেন ইবরাহিম ত্রাওরেকে হত্যার ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার দাবি করেছে দেশটির সরকার। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে দেশটির নিরাপত্তামন্ত্রী মাহামাদু সানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নিরাপত্তামন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল পল হেনরি দামিবার সূক্ষ্ম পরিকল্পনায় ত্রাওরেকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল।
মাহামাদু সানা বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শেষ মুহূর্তে এই হামলার চেষ্টা রুখে দিয়েছে। তারা রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেও হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।’
আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো শেষ মুহূর্তে এই হামলার চেষ্টা রুখে দিয়েছে। তারা রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যার পরিকল্পনা করছিল। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও বেসামরিক ব্যক্তিদের লক্ষ্য করেও হামলার পরিকল্পনা ছিল তাদের।
-মাহামাদু সানা
২০২২ সালের জানুয়ারিতে দেশটির নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট রক কাবুরেকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে পল হেনরি দামিবার। নয় মাস ক্ষমতায় থাকার পর, দেশ চালাতে ব্যর্থ হওয়ায় ইবরাহিম ত্রাওরে তার বিরুদ্ধে অভ্যু্ত্থানে নেতৃত্ব দেন। দেশ ছেড়ে টগো পালিয়ে যান দামিবার। ১৯৬০ সালে ফ্রান্স থেকে স্বাধীনতা লাভ করার পর, বুরকিনা ফাসোতে কমপক্ষে নয়বার অভ্যুত্থান হয়।
মাহামাদু সানা অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক সামরিক শাসক তার সেনা ও বেসামরিক সমর্থকদের এ কাজের জন্য জড়ো করেছিলেন। আর এ কাজে তারা বিদেশি সহায়তা পেয়েছেন। পার্শ্ববর্তী আইভরি কোস্ট থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে কর্নেল দামিবা কিংবা আইভরি কোস্টের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর থেকে ক্যাপ্টেন ত্রাওরে অন্তত দুবার পাল্টা অভ্যুত্থানের চেষ্টা মোকাবিলা করেছেন। তাকে জিহাদি সহিংসতার বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে ছড়িয়ে পড়া এ সহিংসতার জেরে লাখ লাখ মানুষ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে।
নিরাপত্তামন্ত্রী বলেছেন, তারা একটি ফাঁস হওয়া ভিডিও উদ্ধার করেছেন। এতে প্রেসিডেন্টকে কীভাবে হত্যার পরিকল্পনা করছে, তা নিয়ে তাদের কথা বলতে শোনা যায়। তারা বলছিল, হয় কাছ থেকে আক্রমণ করে, নয়তো বাসভবনে বিস্ফোরক পুঁতে হত্যা করা হবে। স্থানীয় সময় গত শনিবার রাত ১১টার পরপরই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা ছিল। এরপর তারা অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা ও উল্লেখযোগ্য বেসামরিক ব্যক্তিদের নিশানা করতে চেয়েছিল।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে নিরাপত্তামন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তাদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে জানিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মাহামাদু সানা। তবে কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা জানাননি তিনি।