হঠাৎ করেই গতকাল মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেল থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে থাকে চিত্রনায়ক রিয়াজের মৃত্যুর খবর সংক্রান্ত একাধিক পোস্ট। কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র না থাকলেও মুহূর্তের মধ্যেই সংবাদটি নেটদুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।
এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন রিয়াজের ভক্ত, অনুসারী এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীরা। অনেকেই বিষয়টির সত্যতা জানতে সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন তুলতে থাকেন। তবে রিয়াজের পরিবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই খবর সম্পূর্ণ গুজব। অভিনেতা জীবিত ও সুস্থ আছেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘রিয়াজ সম্পর্কে ছড়ানো খবর একেবারেই ভিত্তিহীন। তিনি সুস্থ আছেন। যেখানেই আছেন, ভালো আছেন।’ রিয়াজের স্ত্রীও একই কথা নিশ্চিত করেন।উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে রিয়াজ কার্যত লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। এরপর থেকে তার কোনো প্রকাশ্য উপস্থিতি বা চলচ্চিত্র অঙ্গনের কারো সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের খবর পাওয়া যায়নি। এমনকি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিও দীর্ঘদিন ধরে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি।
রিয়াজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি অনেকের পক্ষেই। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণেই তার মৃত্যুর গুঞ্জন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে তা বিশ্বাস করতে শুরু করেন।
ঢাকাই চলচ্চিত্রের এক সময়ের জনপ্রিয় নায়ক রিয়াজ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিনয়ে অনিয়মিত হলেও রাজনীতিতে ছিলেন বেশ সক্রিয়। তিনি দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক উপকমিটির সদস্য হিসেবে দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিটিভি ও এফডিসিতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনেও তিনি নেতৃত্ব দেন। পাশাপাশি সে সময় আলোচিত ‘আলো আসবেই’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও তার সক্রিয় ভূমিকার কথা উঠে আসে। তবে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই রিয়াজ নিজেকে সব ধরনের যোগাযোগ ও গণমাধ্যম থেকে গুটিয়ে নেন।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি ‘বাংলার নায়ক’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে যাত্রা শুরু করা রিয়াজ টানা দুই দশকের বেশি সময় ধরে শীর্ষ নায়ক হিসেবে দর্শকমনে রাজত্ব করেছেন। তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘অপারেশন সুন্দরবন’ মুক্তি পায় ২০২২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর।