মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রোববার তৈরি হলো ক্রিকেট–ফুটবলের এক স্মরণীয় মিলনমেলা। ভারতের ক্রিকেট কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকার আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিকে উপহার দেন নিজের ১০ নম্বর ভারতীয় দলের জার্সি, তাতে ছিল শচীনের অটোগ্রাফও।
লিওনেল মেসি তার G.O.A.T. ট্যুর উপলক্ষে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হলে পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে ওঠে ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি।’ একই সঙ্গে দর্শকরা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে স্বাগত জানান শচীন টেন্ডুলকারকেও। মুহূর্তটি হয়ে ওঠে দর্শকদের জন্য আজীবনের স্মৃতি।
এই অনুষ্ঠানে মেসি ও শচীনের উষ্ণ আলিঙ্গন ক্রিকেট ও ফুটবলের দুই মহাতারকার বন্ধনের প্রতীক হয়ে ওঠে। শচীন মেসিকে তার স্বাক্ষরিত জার্সি উপহার দিলে, পাল্টা উপহার হিসেবে মেসি শচীনকে দেন ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল ফুটবল।অনুষ্ঠানে শচীন টেন্ডুলকার মুম্বাইয়ের দর্শকদের ধন্যবাদ জানান তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনের জন্য। তিনি বলেন, এই ভালোবাসাই ‘স্বপ্নের শহর মুম্বাইকে এমন একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত উপহার দিয়েছে।’
পাশাপাশি মেসি ছাড়াও লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো দি পলের উপস্থিতির জন্য কৃতজ্ঞতা জানান শচীন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ভারতে ফুটবল আরও এগিয়ে যাবে।
এই আয়োজনে ভারতের ফুটবল তারকা সুনীল ছেত্রীও মেসির সঙ্গে বিশেষ মুহূর্ত ভাগ করে নেন, যা দর্শকদের বাড়তি উচ্ছ্বাস এনে দেয়।
তবে পুরো স্টেডিয়ামের উন্মাদনা যেখানে মেসিকে ঘিরে, সেখানে বলিউড তারকাদের উপস্থিতি দর্শকদের তেমন মন ভরাতে পারেনি। অজয় দেবগন ও টাইগার শ্রফ মাঠে নামলে দর্শকদের একাংশ তাদের ‘বু’ ধ্বনিতে বিদায় জানায়।এমনকি মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ যখন বলিউড তারকাদের সংবর্ধনা দিচ্ছিলেন, তখনও দর্শকরা ‘মেসি, মেসি’ স্লোগান দিতে থাকেন।
এদিন লিওনেল মেসি ‘প্রজেক্ট মহাদেবা’ নামের একটি ফুটবল উন্নয়ন প্রকল্পও উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের আওতায় মহারাষ্ট্র থেকে বাছাই করা ৬০ জন শিশুকে বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ ও কোচিং দেওয়া হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশ পায় নতুন ফুটবল তারকা।