বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ দিলে খরচ কে বহন করবে

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ ঋণ আদান-প্রদান করেন। একসময় হাতে বা নগদে ঋণ দেওয়া-নেওয়া হতো। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার এই যুগে এখন ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনেকে ঋণ দেওয়া-নেওয়া করেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হলে পুরো টাকা উত্তোলন করা যায় না। প্রতি হাজারের বিপরীতে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা কোম্পানিগুলো কেটে নেয়। ফলে ঋণগ্রহীতা টাকা কম পাচ্ছে।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ৫ হাজার টাকা পাঠালে ব্যক্তি পাচ্ছেন ৪৯০০ টাকা বা এর একটু বেশি। এদিকে ঋণগ্রহীতা যদি ঋণদাতাকে বরাবার ৫ হাজার টাকাও পাঠান, তাহলে ঋণদাতা টাকা উত্তোলনের সময় পাবেন ৪৯০০ টাকা বা এর চেয়ে একটু বেশি। এ অবস্থায় ঋণদাতা কম টাকা পাচ্ছে। প্রশ্ন হলো, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ দিলে খরচ কে বহন করবে?

ইসলামে করজে হাসানার গুরুত্ব

করজে হাসানা হলো উত্তম ঋণ। পবিত্র কোরআনের অনেক আয়াতে এই করজে হাসানার উল্লেখ আছে। আল্লাহ বলেন, ‘কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে। আল্লাহ তার জন্য একে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন। আর আল্লাহই (জীবিকা) কমান বা বাড়ান। আর তোমাদের তাঁরই কাছে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৪৫)

সুরা মুজ্জাম্মিলের ২০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও আর আল্লাহকে দাও করজে হাসানা।’

করজে হাসানা এমন একটি ব্যবস্থা, যা দরিদ্র ও অসহায়দের স্বাবলম্বী করার জন্য প্রদান করা হয়। এটি শুধু অর্থনৈতিক সাহায্য নয়, এটি একটি মানবিক নীতি, যা সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

করজে হাসানার মূল বৈশিষ্ট্য হলো, এটি সুদবিহীন এবং মানবিক উদ্দেশ্যপূর্ণ। সুদ ইসলামে নিষিদ্ধ।

করজে হাসানার ফলে ঋণগ্রহীতা অতিরিক্ত অর্থনৈতিক বোঝা ছাড়াই ঋণ নিতে পারে। ঋণদাতার পক্ষ থেকে তার ওপর কোনো ধরনের দমন বা চাপ প্রয়োগ করা যাবে না।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঋণ দিলে খরচ কে দেবে

ঢাকা থেকে প্রকাশিত আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ সম্পাদিত মাসিক আল-কাউসারের এক ফতোয়ায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি কারও কাছে করজে হাসানা চায় এবং তা নিজে সরাসরি বা কারও মাধ্যমে অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে না নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পাঠানোর অনুরোধ করে, তাহলে যে পরিমাণ অর্থ ঋণদাতা পাঠিয়েছে, তত টাকাই ফেরত পাবে। এ ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা-কর্তৃক উক্ত টাকা ক্যাশ আউট করতে যদি কোনো খরচ হয়, তাহলে ওই খরচ ঋণগ্রহীতা নিজেই বহন করবে।

করজের টাকা ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার দায়িত্ব হলো, ঋণদাতাকে তার প্রেরিত পুরো অর্থ এমনভাবে পৌঁছে দেওয়া বা প্রেরণ করা, যেন সে তার পুরো পাওনা বুঝে পায়। তাই যদি কোনো ঋণগ্রহীতা নিজ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা প্রেরণ করতে চায়, কিন্তু ঋণদাতা সেভাবে নিতে না চায়, তাহলে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ক্যাশ আউট চার্জ প্রেরণকারী বহন করবে। কিন্তু যদি ঋণগ্রহীতা এ টাকা সরাসরি পরিশোধ করতে চায় আর ঋণদাতা তাকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাঠাতে বলে, তাহলে সেক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি তাকে যত টাকা পাঠিয়েছিল, তত টাকা ফেরত পাঠালেই চলবে। কোনো ক্যাশ আউট চার্জ প্রদান করা লাগবে না। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ফণ্ড: ৪, ৪/৩৭২; আলমাআয়িরুশ শরইয়্যা,

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102