বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন

গণতন্ত্রের জন্য বারবার আত্মত্যাগ করেছে এ দেশের মানুষ: স্পিকার

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, এ দেশের মানুষ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার আত্মত্যাগ করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়েও তারা কখনো বিচ্যুত হয়নি।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ ভবনে নিজ কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

সাক্ষাৎকালে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জার্মানির পর্যবেক্ষক দলের উপস্থিতি দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিয়েছে। জার্মানি ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে শোষণের শিকার হয়েছে। পাকিস্তান আমলে গণতান্ত্রিক বৈষম্য প্রকট আকার ধারণ করেছিল। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনে দেশের মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও প্রহসনের নির্বাচনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে পুনরায় গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

স্পিকার আরও বলেন, গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষ বারবার নিজেদের উৎসর্গ করেছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ লড়াইয়ে তারা কখনো বিচ্যুত হয়নি।

জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসন থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কার্যকর করতে জার্মান সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যে সংসদীয় কমিটি গঠন এবং মৈত্রী গ্রুপের মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতির প্রসার নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশে জার্মানির অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং সার কারখানা স্থাপনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।এ সময় স্পিকার বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা ও উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধানে জার্মানির বিশেষজ্ঞ দলকে আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতি জ্বালানিনির্ভর হবে বলেও তিনি রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। সাক্ষাৎকালে জার্মান দূতাবাসের প্রতিনিধি এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102