সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভ করতে কার না ইচ্ছে হয়! তবে দীর্ঘায়ু এবং স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের পেছনে ডায়েটের (খাদ্যাভ্যাস) ভূমিকা কতটা গভীর, তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন পুষ্টিবিদ ও গবেষকরা। সম্প্রতি স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘হেলথলাইন’-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে প্রোটিন গ্রহণ এবং দীর্ঘায়ুর মধ্যকার এক চমকপ্রদ সম্পর্ক। সেখানে বলা হয়েছে, মধ্যবয়সে প্রোটিন—বিশেষ করে প্রাণিজ প্রোটিনের পরিমাণ কিছুটা সীমিত রাখলে তা দীর্ঘায়ু ও সুস্থ বার্ধক্যের সহায়ক হতে পারে।
গবেষণার মূল বিষয়বস্তু :
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে শরীরে ‘আইজিএফ-১’ নামক একটি হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই হরমোনের উচ্চমাত্রা বার্ধক্য প্রক্রিয়াকে দ্রুত ত্বরান্বিত করতে পারে এবং ক্যানসারসহ বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। তবে মধ্যবয়সে প্রোটিনের মাত্রা কিছুটা কমিয়ে রাখলে এই হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীরের কোষগুলো নিজেদের মেরামত করার বাড়তি সুযোগ পায়।
প্রাণিজ বনাম উদ্ভিজ্জ প্রোটিন :
গবেষকরা বলছেন, সব প্রোটিন শরীরের ওপর একইভাবে প্রভাব ফেলে না। রেড মিট (লাল মাংস) এবং পনিরের মতো ভারী প্রাণিজ প্রোটিনের চেয়ে ডাল, শিম, বাদাম এবং বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ প্রোটিন দীর্ঘায়ু অর্জনে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকিও কমায়।
বয়সের সঙ্গে চাহিদার পরিবর্তন :
তবে এর মানে এই নয় যে প্রোটিন পুরোপুরি বাদ দিতে হবে। পেশির গঠন, হরমোন তৈরি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য প্রোটিন অত্যন্ত জরুরি। গবেষকরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স ৬৫ বা তার বেশি হওয়ার পর শরীরের পেশির ক্ষয় রোধ করতে প্রোটিনের চাহিদা কিছুটা বাড়তে পারে। তাই বয়সের বিভিন্ন ধাপে প্রোটিন গ্রহণের মাত্রায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ :
পুষ্টিবিদরা মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট ডায়েট অন্ধভাবে অনুসরণ না করে নিজের বয়স, শারীরিক গঠন ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনা করে প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। মধ্যবয়সে প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস কমিয়ে উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের দিকে ঝুঁকলে এবং পরিমিত খাবার গ্রহণ করলে তা বার্ধক্যে সুস্থ ও সক্রিয় থাকতে দারুণ সাহায্য করতে পারে।