রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

কেশবপুরের মাটিতে সৌদি খেজুর চাষে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সৌদি আরবের লাল টসটসে মরিয়াম খেজুর এখন যশোরের কেশবপুরে নুসরাত জাহান লিজার বাড়ির আঙিনায় কাঁদিতে কাঁদিতে ঝুলছে। শুধু মরিয়াম নয়, আজওয়াসহ আরও কয়েকটি জাতের সুস্বাদু খেজুরে রঙিন হয়ে উঠেছে তাঁর বাড়ির আঙিনা। এসব খেজুর দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে কৌতূহলী মানুষ ভিড় করছেন।

যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের নুসরাত জাহান লিজা বাড়ির আঙিনায় সৌদি খেজুর চাষ করে তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ইউটিউবের মাধ্যমে দীর্ঘ প্রচেষ্টায় বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে ছয় বছর আগে বাড়ির আঙিনায় সারি সারি খেজুরগাছ রোপণ করেন এই সংগ্রামী নারী উদ্যোক্তা।

তাঁর বাড়ির সামনে বর্তমানে সৌদি আরবের সুস্বাদু খেজুরের ৩৫ থেকে ৪০টি গাছ রয়েছে। এবারই প্রথম বাগানের কয়েকটি গাছে ফলন এসেছে। গাছে লাল টসটসে খেজুর ধরার খবর ছড়িয়ে পড়ায় তা দেখতে প্রতিদিনই ওই বাড়িতে মানুষের ভিড় হচ্ছে। লিজার সাফল্যের কথা জানতে পেরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারাও তাঁর বাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন।

নুসরাত জাহান লিজা ওই গ্রামের আব্দুল লতিফের মেয়ে এবং রবিউল ইসলামের স্ত্রী। লেখাপড়া ও সংসার সামলানোর পাশাপাশি নিজেকে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি সৌদি খেজুর চাষে ঝুঁকেছেন।

লিজা জানান, তাঁর লাগানো গাছগুলোর মধ্যে গত বছর থেকে কয়েকটিতে ফলন আসতে শুরু করেছে। বাড়ির সামনে লাগানো প্রথম গাছটিতে চারটি কাঁদি ধরেছে। প্রতিটি কাঁদিতে ১০ থেকে ১২ কেজি খেজুর হবে বলে আশা করছেন তিনি। এরই মধ্যে খেজুরগুলো হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে।

খেজুরগাছের পরিচর্যার সময় নুসরাত জাহান লিজা বলেন, ছয় বছর আগে সৌদি আরব থেকে তাঁদের এক আত্মীয় হজ শেষে দেশে ফেরার সময় ওই দেশের খেজুর নিয়ে আসেন। তাঁকে সৌদি আরবের সেই খেজুর খেতে দিলে তিনি এর বীজ সংরক্ষণ করেন। পরে ওই বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে বাড়ির আঙিনায় লাগানো হয়। বর্তমানে তিনটি গাছে ফলন এসেছে। এ ছাড়া অধিকাংশ গাছের গোড়া থেকে একাধিক চারা বা বোগ বের হয়েছে। এসব গাছের গোড়ায় ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার ব্যবহার করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, কাঁদিতে থাকা এসব খেজুর আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পেকে যাবে। পাকলে এসব খেজুর প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব হবে। প্রথমবারের মতো ওই তিনটি গাছ থেকে উৎপাদিত খেজুর বিক্রি করে এক লাখ টাকার বেশি আয় করার আশা করছেন লিজা।

লিজার বাড়িতে সৌদি খেজুর দেখতে আসা কবি ইব্রাহীম রেজা বলেন, এ অঞ্চলের মাটিতে সৌদি আরবের খেজুর উৎপাদনের কথা শুনে তিনি দেখতে এসেছেন। গাছে লাল টসটসে খেজুর দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ অঞ্চলে প্রথম সৌদি খেজুর উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন নুসরাত জাহান লিজা। তাঁর সাফল্য দেখে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তবে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করতে হলে আরও ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এরপরই বলা যাবে, কেশবপুরের মাটি ও আবহাওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে সৌদি খেজুর চাষ করা সম্ভব কি না।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102