কুষ্ঠ রোগ কোনো অভিশাপ বা ছোঁয়াচে ব্যাধি নয়; সঠিক ও সময়মত চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। কুষ্ঠমুক্ত দেশ গড়তে কুসংস্কার দূরীকরণ, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এক বিভাগীয় অ্যাডভোকেসি সভায় বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচি এবং দ্য লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (এলটিএমআই-বি) যৌথ উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শেখ মো. মোশাররফ হোসেনের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে মূল আলোচনা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে লেপ্রসি মিশনের হেড অব অপারেশনস জিপথা বৈরাগী খুলনা অঞ্চলের কুষ্ঠ পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও জরিপের অভাবে মাগুরা ও নড়াইলের মতো এলাকায় রোগী শূন্য দেখালেও মূলত সচেতনতা ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার অভাবেই এমনটি ঘটছে। তবে খুলনা ও কুষ্টিয়ায় কার্যক্রম সক্রিয় থাকায় সেখানে রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার হার বেশি।
জাতীয় কুষ্ঠ কর্মসূচির উপপরিচালক (এমবিডিসি) ডা. মাহবুব আরেফিন রেজানুর জানান, নতুন করে সারাদেশে কুষ্ঠ রোগী শনাক্তের জন্য দ্রুত একটি বিস্তৃত জরিপ পরিচালনা করা জরুরি, যার জন্য ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বাজেট আবেদন করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমবিডিসি) ডা. মো. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, আক্রান্ত হওয়ার ২ থেকে ১০ বছর পর পর্যন্ত কুষ্ঠের লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। তাই প্রাথমিক অবস্থাতেই চিকিৎসা শুরু করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে এই রোগের সম্পূর্ণ চিকিৎসার ভার রাষ্ট্রকেই নিতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আবদুছ সালাম বলেন, ‘কুষ্ঠ একটি প্রাচীন কিন্তু নিরাময়যোগ্য রোগ। আক্রান্তদের চিকিৎসা সহজলভ্য করতে এই খাতে বাজেট আরও বৃদ্ধির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করা হবে।’
অনুষ্ঠানে কুষ্ঠ বিজয়ী রেসমা বেগম তার দীর্ঘ ২৬ বছরের সামাজিক অবহেলা ও অবশেষে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার নির্মম অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আকুতি জানান—সচেতনতার মাধ্যমে যেন আর কাউকে সমাজে এভাবে হেয় হতে না হয়।