১৯৭১ সালের মার্চ মাস। চারদিকে অনিশ্চয়তা, স্বাধীনতার আকুলতা আর এক অবরুদ্ধ জাতির বুকফাটা আর্তনাদ। ঠিক সেই মুহূর্তে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে একটি জোরালো কণ্ঠস্বর ভেসে এলো— ‘আমি মেজর জিয়া বলছি, বলছি স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ…’।
একটি মাত্র ঘোষণা যেন গোটা জাতিকে এক সুতোয় গেঁথে দিল, কে বাঙালি আর কে অ-বাঙালি সেই দ্বিধা ভেঙে মুক্তির নেশায় ঝাঁপিয়ে পড়ল লাখো জনতা।
সেই উত্তাল দিনগুলোর পর ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে যখন বাংলাদেশ এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি, তখন আবারও হাল ধরতে সামনে এলেন সেই মানুষটিই।
বহুদূরদর্শী নেতৃত্ব দিয়ে যিনি সংবিধানে গণতন্ত্রের পথ সুগম করলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিলেন এবং তলাবিহীন ঝুড়ির অপবাদ ঘুচিয়ে দেশকে আত্মনির্ভরশীলতার পথে হাঁটাতে শুরু করলেন—তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।
ইতিহাসের পথপরিক্রমা বড্ড নির্মম। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমানের জীবনাবসানের পর যখন গণতন্ত্রের কফিনবন্দী দশা, তখন হাল ধরলেন এক সাধারণ গৃহবধূ থেকে দেশমাতৃকার মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী হয়ে ওঠা বেগম খালেদা জিয়া।
স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ নয় বছরের রক্তক্ষয়ী আপসহীন আন্দোলনের সুবাদে ১৯৯১ সালে মুক্ত হলো স্বৈরতন্ত্রের শিকল। সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে তিনি প্রমাণ করলেন, জিয়া পরিবার ক্ষমতার লোভী নয়, বরং জনগণের অধিকার আদায়ের পরীক্ষিত ঠিকানা।
আজকের এই প্রজন্মের কাছে জিয়া পরিবার কেবল একটি নাম নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং বারবার হোঁচট খাওয়া গণতন্ত্রকে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর দীর্ঘ সংগ্রামের একটি জীবন্ত ইতিহাস। রক্তে ভেজা এই বাংলার মাটিতে স্বাধিকারের চেতনা যতদিন বেঁচে থাকবে, জিয়া পরিবারের আত্মত্যাগের সেই উপাখ্যানও মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকবে।