লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সুজন পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি। তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ মামলা করা হয়েছে। শাহী হোটেল নামীয় দোকানঘর দখলের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবি করেন তারা।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রায়পুরে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার ফয়সাল বলেন, দোকানের মালিক নিজেই দোকানে তালা লাগিয়ে বিএনপি নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে আদালতে মামলা করেছেন।
তার দাবি, গত ১০ জুলাই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে রায়পুর পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুল ও মামলার বাদী হাবিব উল্লাহ শাহী হোটেলে তালা লাগাচ্ছেন—এমন দৃশ্য দেখা গেছে। অথচ ওই ঘটনায় তাদের নাম মামলায় কীভাবে এলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, দোকানঘরটি বেলাল নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে জামাল ও বাপ্পির চুক্তি সংক্রান্ত বিষয় থাকলেও সেখানে বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততা নেই। বিএনপি নেতা মুকুলের ভাই-ভাতিজা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং তাদের ইন্ধনে বিএনপি নেতাদের হেয়প্রতিপন্ন করতে মামলাটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুকুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নাজমুল ইসলাম মিঠু বলেন, বিএনপিকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। ‘শাহী হোটেল’ দখলের চেষ্টার অভিযোগে বিএনপি নেতাদের জড়ানো হলেও এ ঘটনার সঙ্গে কাগজপত্র অনুযায়ী বিএনপির কোনো নেতার সম্পৃক্ততা নেই।
পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি নজরুল ইসলাম লিটন বলেন, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী অপরাধ বা ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নির্দোষ নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মেনে নেওয়া হবে না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আকবর হোসেন আরমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এবিএম জিলানী, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শফিকুল আলম আলমাছ সহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।