দেশের লাল-সবুজ পতাকা হাতে সুইজারল্যান্ডের ইন্টারলাকেনে ৩৩তম আন্তর্জাতিক ইয়ুংফ্রাউ দূরপাল্লার ম্যারাথনে অংশ নিয়েছেন জার্মানির মিউনিখে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী দৌড়বিদ শিব শংকর পাল। বিশ্বের ৬৬টিরও বেশি দেশের প্রায় ৪ হাজার অ্যাথলেটের সঙ্গে শনিবার অনুষ্ঠিত এই ম্যারাথনে ৪২ দশমিক ২ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে সফলভাবে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের আল্পস পর্বতমালার অন্যতম উচ্চতম পর্বত ইয়ুংফ্রাউ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে চার হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতার এই পর্বতশ্রেণির দুর্গম ও উঁচুনিচু পথ পাড়ি দিয়ে আয়োজিত হয় ইয়ুংফ্রাউ ম্যারাথন। ৫৬৮ মিটার উচ্চতার একটি ক্যাম্প থেকে শুরু হয়ে বইয়েনিংগেন, ভিল্ডার্সভিল, ৮১২ মিটার উচ্চতার লাউটারব্রুনেন পয়েন্ট ও ১ হাজার ২৮৩ মিটার উচ্চতার ভেনগেন পর্বত পেরিয়ে ২ হাজার ৩২০ মিটার উচ্চতার আইগারগ্লেটশার এলাকায় গিয়ে ম্যারাথনের সমাপ্তি ঘটে। এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে শিব শংকর সময় নিয়েছেন প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা।
ঢাকার নবাবগঞ্জে জন্ম নেওয়া শিব শংকর পাল একজন সৌখিন দৌড়বিদ। বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্বনামধন্য ম্যারাথনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা তুলে ধরাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ম্যারাথনে শতাধিকবার অংশ নিয়ে সফলভাবে ফিনিশিং লাইন অতিক্রম করা একমাত্র বাংলাদেশি দৌড়বিদ তিনি।
ম্যারাথন শেষে শিব শংকর পাল বলেন, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরার মতো গর্বের আর কিছু হতে পারে না।’ তার মতে, ইয়ুংফ্রাউ ম্যারাথন বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় ও সুন্দর ম্যারাথন। একই সঙ্গে কঠিন ও দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দেওয়ার কারণে প্রতিযোগিতাটি তাকে বিশেষভাবে রোমাঞ্চিত করে।
শিব শংকর বলেন, ‘আমি এবার ১০ম বারের মতো এই ম্যারাথনে অংশ নিয়েছি। এই ট্র্যাকটি আমার সবচেয়ে প্রিয়।’ এবারের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে তার অংশগ্রহণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪৩টিতে।
ম্যারাথন দেখতে সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় নাগরিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের পর্যটকরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় শিব শংকরের স্ত্রী শিখা শংকর পাল এবং তার সন্তানরাও সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে উৎসাহ দেন।
নিজের ক্যারিয়ার গড়তে ১৯৮৯ সালে জার্মানিতে পাড়ি জমান শিব শংকর পাল। পরে ১৯৯৯ সালে জার্মানির মিউনিখে ‘পাল ইলেক্ট্রো’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ব্যবসায়িক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে মিউনিখ শহর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কয়েকবার বিশেষ পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি।
ব্যবসার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দৌড়কে নিজের অন্যতম প্রিয় অনুশীলন ও নেশা হিসেবে ধরে রেখেছেন শিব শংকর। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আন্তর্জাতিক ম্যারাথনে বাংলাদেশের পতাকা হাতে অংশ নিয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে চলেছেন এই প্রবাসী বাংলাদেশি।