ইবতেদায়ি মাদ্রাসাকে জাতীয়করণ এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিশ্চিতের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষকরা জাতীয়করণের দাবিতে স্লোগান দেন এবং দ্রুত নির্বাহী আদেশ জারির আহ্বান জানান।
স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা সাধারণ শিক্ষক ফেডারেশনের আহ্বায়ক মাওলানা রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার শিক্ষক বেতন-ভাতা ছাড়াই পাঠদান করে আসছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী আদেশে সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের দাবি জানান তিনি।
শিক্ষক নেতাদের ভাষ্য, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো নিবন্ধন পায়। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোরআন, সুন্নাহ, আরবি ভাষার পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়।
১৯৯৪ সালে ৫০০ টাকা ভাতা চালু হলেও প্রায় ১৮ হাজার মাদ্রাসার মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৫১৯টি প্রতিষ্ঠান সেই সুবিধা পেয়েছিল। পরে ২০১৩ সালে ২৬ হাজার ১৯৩টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলো সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়।
শিক্ষক নেতারা বলেন, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সরকারকে দ্রুত আলোচনায় বসে জাতীয়করণ ও বেতন-ভাতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান আন্দোলনকারীরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা জানান, আগামীকাল মিছিল ও পদযাত্রা শেষে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও ঘোষণা দেন তারা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার এক প্রধান শিক্ষক বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ৬টি বিষয়ে পড়ান, অথচ আমরা ৮টি বিষয়ে পাঠদান করি। তবু বেতন-ভাতা পাই না।