নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৪ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৯৮ জন। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (এনডিআরআরএমএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আটটি জেলা থেকে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার করা মরদেহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চিতওয়ানে ২৫৯টি এবং নওয়ালপরাসি পূর্বে ১৮৪টি। এছাড়া নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ৮২, গোর্খায় ৫৮, নুয়াকোটে ৫২, ধাদিঙে ৫০, তানাহুনে ৩৬ এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী রয়েছেন। এ ছাড়া রাসুয়ার ৫৬২ জন এবং নুয়াকোটের ১১৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের তালিকায় নেপাল পুলিশের ২৭ সদস্য, নেপাল সেনাবাহিনীর ৪৫ সদস্য, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ১৩ সদস্য, ১৫ জন শুল্ক কর্মকর্তা এবং চারজন অভিবাসন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
নিখোঁজদের মধ্যে ৫৮৯ জন বিদেশি নাগরিক। বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে ভ্রমণরত ১২৭ জন নেপালিও নিখোঁজ রয়েছেন। এ ছাড়া লাংটাং জাতীয় উদ্যানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনজনও নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
এদিকে দুর্যোগের পর ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ১৮৬ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে নেপাল সেনাবাহিনী ২ হাজার ৯৭৪ জন, নেপাল পুলিশ ২ হাজার ৬৯৯ জন এবং সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ২ হাজার ৫১৩ জনকে উদ্ধার করেছে।
গত দুই দিনে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ২৭৯ জনকে আকাশপথে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে ২২৭ জন বিদেশি নাগরিককেও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৪২ জন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে চিকিৎসাসেবা দিতে সার্জিক্যাল মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিভিন্ন জেলার ২১টি হাসপাতালে এখনো অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার জন্য পৃথকভাবে ১ বিলিয়ন রুপি করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ধাদিঙের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন রুপি। এ ছাড়া ১৫টি স্থানীয় সরকারকে দেওয়া হয়েছে ৬৭৫ মিলিয়ন রুপি।
ত্রাণ হিসেবে ইতোমধ্যে ৩৭ ট্রাক খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সাতটি হেলিকপ্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
উত্তরগয়া ও ধুনচেতে পাঠানো হয়েছে দুই টন খাদ্যসামগ্রী। দুর্গত এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ সরঞ্জামও মোতায়েন করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের সন্ধান, মরদেহ শনাক্তকরণ এবং দুর্গতদের উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম একসঙ্গে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।