যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার নিজ দলের ভেতর থেকেই নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবির মুখে পড়েছেন। তবে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি। খবর বিবিসির।
সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ফলাফলের পর অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সম্ভাব্য নতুন নেতা হিসেবে নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে আলোচনা জোরদার হয়েছে। দলটির কয়েকজন সংসদ সদস্য মনে করছেন, আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব নির্বাচন ছাড়াই দায়িত্ব হস্তান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করলে দীর্ঘমেয়াদি অভ্যন্তরীণ সংকট এড়ানো সম্ভব হতে পারে।
তবে স্টারমার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তিনি নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছেন না। সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা হলে তিনি তাতে অংশ নেবেন বলেও জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, দলের ভেতরে স্টারমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ অবস্থায় তিনি মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের প্রতি সমর্থনের অবস্থান মূল্যায়নের চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে, কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়ে মত দিলেও অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। অন্যদিকে সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নামও আলোচনায় এসেছে।
লেবার পার্টির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কের কারণে আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওই বৈঠক স্টারমারের ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা দিতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছেন, সাধারণ নির্বাচনে পাওয়া জনসমর্থনের ভিত্তিতেই তিনি দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জনসেবা উন্নয়ন এবং অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আরও কাজ বাকি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি দায়িত্ব পালনে অটল থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।