শনিবার (২০ জুন) বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা শাখার উদ্যোগে এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন লিটন বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর তার দপ্তর অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আগে সচিবের কক্ষে গিয়ে সরাসরি দেখা করা কঠিন ছিল, কিন্তু এখন প্রতিদিন সারাদেশ থেকে শত শত শিক্ষক এসে তাদের সমস্যা জানাচ্ছেন এবং সমাধানের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধের জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও তা সঠিকভাবে বিতরণ হয়নি। ফলে অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তাদের অবসর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া অবসর সুবিধা বোর্ডের সফটওয়্যারও ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রেখে যাওয়া হয়েছে, যার কারণে বর্তমানে কাজ করতে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
লিটন বলেন, ২০২১ সাল পর্যন্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধার বকেয়া পরিশোধ করা হয়েছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সারাদেশ থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কমপক্ষে ১০ হাজার শিক্ষককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরকালীন সুবিধার চেক প্রদান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এ চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতি থাকবে। প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষকদের সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত আছেন এবং অবসরকালীন সুবিধা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন ও বাজেটেও বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সহযোগিতায় শিক্ষকদের সব বকেয়া দ্রুত পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট চাঁদপুর জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক এবিএম শাহ আলম টিপু।
সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির চৌধুরী, জিয়া পরিষদ জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ হিল বাকি, চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক হাফেজ আহমেদ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেসিন জেলা কমিটির সভাপতি এটিএম মোস্তফা হামিদী, চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বাহার, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মিলনসহ অনেকে।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলার সাধারণ সম্পাদক সফিউল্লাহ সরকার, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক শাহ আলম, তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ হিল শাহীন, দপ্তর সম্পাদক আফজাল হোসেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মো. শাহজাহান মাস্টার, মতলব উত্তর সভাপতি ফারুকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মতলব দক্ষিণ সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাহের হোসেন, হাজীগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস, চাঁদপুর সদরের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম, ফরিদগঞ্জ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি জসিম উদ্দিন, হাজীগঞ্জ কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বিল্লাল হোসেন, গল্লাক কলেজের সহকারী অধ্যাপক খোরশেদ আলম চৌধুরী এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পক্ষ থেকে সফরমালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাশেম ও শিশু অধিকার চাঁদপুরের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয় এবং প্রয়াত শিক্ষকদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যাপক মুকবুল আহমেদ।
সংবর্ধনার সূচনালগ্নে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট জেলা ও উপজেলা কমিটি এবং বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে সংবর্ধিত অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। পরে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।







