রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০১:৩১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিলে কামরুল সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার পথে অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য কদমতলীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু ফের হরমুজ প্রণালি বন্ধ করল ইরান প্রবাসীদের স্বস্তিদায়ক সেবার জন্য রাষ্ট্রের কাছে যে বার্তা দিলেন জুলকারনাইন ওসির নির্দেশে হাসপাতালের গাছ কর্তন, জানতেন না ইউএনও-বন বিভাগ প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ১০ হাজার শিক্ষককে অবসরকালীন চেক প্রদান করা হবে মেসেঞ্জার-হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোর মেসেজে ‘কবুল’ বললে কি বিয়ে হবে? দেশেই তৈরি হবে মেসি-রোনালদোর মতো খেলোয়াড় : প্রধানমন্ত্রী ‘বহুদলীয় গণতন্ত্রের মাধ্যমে বাক স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান’

তিব্বতে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণে চীন, বিপদ বাড়ছে ভারতের

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬

তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে গড়ে উঠতে যাওয়া এই মেগা প্রকল্পকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ভারতে। সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় ইতোমধ্যে নিজেদের কৌশলগত প্রস্তুতি জোরদার করতে শুরু করেছে নয়াদিল্লি।

চীনের নির্মাণাধীন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ধরা হয়েছে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারতও অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এনএইচপিসি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এটি সম্পন্ন হলে ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

প্রস্তাবিত এই প্রকল্প থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমপরিমাণ।

তবে দুই দেশের প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি এক নয়। চীনের মেডোগ বাঁধের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, কিন্তু ভারতের এসইউএমপি প্রকল্প এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। এমনকি নির্মাণ-পূর্ব প্রস্তুতিমূলক কাজও পুরোপুরি শুরু হয়নি।

ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করার পর ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত হয় এবং পরবর্তীতে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়। অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা, কৃষিকাজ এবং পরিবেশ এই নদীর ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, উজানে এত বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর ফলে কৃষি উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার পাশাপাশি আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কাও বাড়তে পারে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানিয়েছে সরকার।

আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চীনের কাছে অধিক স্বচ্ছতা, তথ্য বিনিময় এবং আগাম পরামর্শের দাবি জানিয়ে আসছে ভারত। তবে এ বিষয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এসইউএমপি প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা এবং উজানে পানির প্রবাহ পরিবর্তন বা সম্ভাব্য পানি প্রত্যাহারের ঝুঁকি মোকাবিলা করা। ফলে অর্থনৈতিক সুবিধার পাশাপাশি প্রকল্পটির কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও অত্যন্ত বেশি।

এদিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা উন্নয়ন, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও জোরদার করা হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102