হাম ও হামের উপসর্গে দেশে শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সিলেটেই মারা গেছে পাঁচজন। এ নিয়ে গত ৬৮ দিনে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ জনে। এর মধ্যে হামের উপসর্গে মারা গেছে ৪১৪ শিশু এবং হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১ হাজার ২৬১ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ৫৪০। একই সময়ে দেশে ৮ হাজার ৩২৯ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখন জাতীয় স্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিয়েছে। তারা স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা, রাষ্ট্রীয়ভাবে টিকা উৎপাদন, আক্রান্ত শিশুদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা এবং বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু টিকাদান নয়, আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ, হাসপাতালে আলাদা ইউনিট চালু এবং পুষ্টিহীন শিশুদের জন্য বিশেষ সহায়তা জরুরি। নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, টিকার সংকট এবং সচেতনতার অভাবের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, সরকার এরই মধ্যে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে এবং ঈদের পর আবারও বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে।