সোমবার (১৮ মে) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন। এদিকে রোববারের সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নেন। তারা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। ব্লকেডের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে গেলে আন্দোলনকারীরা বাধা দেন। এতে মূল ফটকের বাইরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভীড় দেখা যায়।
দুপুর ১টার দিকে ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারের পাশে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ক্যাম্পাসের বাইরে একটি ভবনে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে ডুয়েট শাখা ছাত্রদল।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেছেন। গত ১৪ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর ওই দিন রাত থেকেই আন্দোলন শুরু করেন একাংশের শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ। তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন এবং একাডেমিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয় সে দিকেও সতর্ক ছিলেন। তবে রোববার সকালে ছাত্রদল ও বহিরাগতদের এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট ভেঙে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় ভেতরে থাকা শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তাদের ওপর ইট-পাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হন, যাদের মধ্যে ১২ জন গুরুতর আহত বলে দাবি করেন তিনি।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিল, ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে উপাচার্য নিয়োগ এবং শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের স্থায়ী বহিষ্কার।
অন্যদিকে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞানচর্চা, মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক চর্চার পবিত্র স্থান। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার রয়েছে। তবে সহিংসতা, হামলা, ভীতি প্রদর্শন ও বহিরাগত হস্তক্ষেপের ঘটনা শিক্ষক সমিতি নিন্দা জানায়। তিনি বলেন, সংঘর্ষে দুই শিক্ষক ও ১৮ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে ডুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে নতুন ভিসিকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করাতে গিয়েছিলেন। তাদের দাবি, প্রথমে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ হামলা চালায় এবং পরে তারা আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নেন। তারা অভিযোগ করেন, শিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা পরিস্থিতি উসকে দিয়েছেন। তবে সংঘর্ষে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেন ছাত্রদল নেতারা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল। রোববার দুই পক্ষের সংঘর্ষে গেটের বাইরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্য, গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন ও সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ১৪ থেকে ১৫ জন আহত হন। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে অজ্ঞাত ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।







