শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধর্ষণের শিকার ১২ বছরের শিশুর পেটে পাঁচ মাসের সন্তান যে এলাকার নেতা প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নন, সে এলাকায় কি উন্নয়ন হবে না’ একসঙ্গে গাঁজা সেবন করছিলেন বাবা-ছেলে, অতঃপর… ইসরায়েলের গণহত্যা নিয়ে কথা বলে সিনেমা থেকে বাদ পড়েন অভিনেত্রী ২০২৮ সালের মধ্যে নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের কাজ চলছে : শিক্ষামন্ত্রী বিশ্বে নতুন আতঙ্ক প্রাণঘাতী হান্টাভাইরাস, ছড়ায় যেভাবে অভিনেতা থেকে তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজয় শুভেন্দু অধিকারী হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছাত্রাবাসে ফ্যানে ঝুলছিল কলেজছাত্রের মরদেহ বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই, থাকছে যেসব বিষয়

ইসরায়েলের গণহত্যা নিয়ে কথা বলে সিনেমা থেকে বাদ পড়েন অভিনেত্রী

আলোকিত স্বপ্নের বিডি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

গাজায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর প্রতিবাদে নিয়মিত ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতেন মেলিসা বারেরা। তিনি যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান, ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনের জন্য তহবিল সংগ্রহের লিংক শেয়ার করেন এবং ইসরায়েলি সরকারের সমালোচনা করেন। এরপরেই প্রযোজনা সংস্থা স্পাইগ্লাস মিডিয়া গ্রুপ তাকে স্ক্রিম ৭ থেকে বাদ দেয় এবং ট্যালেন্ট এজেন্সি ডব্লিউএমই চুক্তি বাতিল করে। 

কাজ থেকে বাদ পড়ার পর প্রায় এক বছর তার কাছে কোনো কাজের প্রস্তাব আসেনি।

তখন স্পাইগ্লাস এক বিবৃতিতে বলেছিল যে তারা ‘যেকোনো ধরনের ইহুদিবিদ্বেষ বা ঘৃণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে।’ তবে মেলিসা সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। তার ভাষায়, ‘কোনো জনগোষ্ঠী আর তাদের সরকার এক বিষয় নয়। আমি শান্তি, মানবাধিকার ও নিরাপত্তার পক্ষে কথা বলেছি এবং ভবিষ্যতেও বলব। আমার জন্য নীরব থাকা সম্ভব নয়।’

মেলিসা বলেন, বরখাস্ত হওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মেক্সিকোতে বেড়ে ওঠা এই অভিনেত্রী ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের স্বপ্ন দেখতেন। সেই স্বপ্নই যেন হঠাৎ অনিশ্চয়তায় পড়ে যায়।

তবে এখন তিনি অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। বর্তমানে তিনি ব্রডওয়ের জনপ্রিয় মিউজিক্যাল ‘টাইটানিক’–এ অভিনয় করছেন। সেখানে তিনি ‘রোজ’ চরিত্রে অভিনয় করছেন, যা জেমস ক্যামেরনের অস্কারজয়ী সিনেমা ‘টাইটানিক’–এর বিখ্যাত চরিত্রের ব্যঙ্গাত্মক সংস্করণ। বারেরা বলেন, ‘আমি এখন অনেক বেশি শান্তিতে আছি। ব্রডওয়েতে কাজ করা ছিল আমার বহুদিনের স্বপ্ন।’

মেলিসা অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই সমর্থনের বার্তা দিলেও প্রকাশ্যে খুব কম মানুষ তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তার কথায়, ‘শুধু ব্যক্তিগত মেসেজ পাঠিয়ে লাভ নেই, যদি কেউ প্রকাশ্যে কিছু না বলে।’

মেলিসা দাবি করেন, হলিউডে এখনো অনেকেই তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত ক্ষোভ পুষে রেখেছেন। তার মতে, তিনি তখন ‘সহজ টার্গেট’ ছিলেন। কারণ, তিনি ছিলেন একজন নারী, লাতিন আমেরিকান বংশোদ্ভূত অভিনেত্রী এবং তখন ক্যারিয়ারের উত্থানের পথে—কিন্তু এত বড় তারকা নন যে তাকে ছোঁয়া যাবে না। তার ভাষায়, ‘আমি যথেষ্ট পরিচিত ছিলাম যাতে আমাকে নিয়ে খবর বানানো যায়, কিন্তু এত বড় তারকা ছিলাম না যে ইন্ডাস্ট্রি আমার পাশে দাঁড়াবে।’

তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান নির্মাতা বুটস রাইলিকে। বারেরার দাবি, তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি তাকে কাজের প্রস্তাব দেন। এরপর ধীরে ধীরে আবার নতুন কাজের দরজা খুলতে শুরু করে।

ইসরায়েল–ফিলিস্তিন ইস্যুতে কথা বলার কারণে নারীরাই বেশি প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ছেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে বারেরা বলেন, তারও এমনটাই মনে হয়। তিনি উদাহরণ হিসেবে অভিনেত্রী সুসান সারান্ডনের নাম উল্লেখ করেন, যিনি প্রকাশ্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে শুধু অভিনেত্রী হিসেবেই ভাবতাম। হঠাৎ মনে হলো, যদি আর কখনো অভিনয়ই করতে না পারি, তাহলে আমি কে?’ পরিবারের সমর্থন তাকে সেই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেছে। এখন তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা গঠনের কাজ করছেন। পাশাপাশি একটি প্রেমের গল্প নিয়ে সিনেমা নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

ভবিষ্যতে কাদের সঙ্গে কাজ করতে চান এমন প্রশ্নে বারেরা বলেন, তিনি এমন মানুষদের নিয়ে কাজ করতে চান যারা ফিলিস্তিনের পক্ষে সরব হয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ বিভাগের আরো সংবাদ
  • © All rights reserved © 2019 alokitoswapner-bd.com - It is illegal to use this website without permission.
Design & Developed by Freelancer Zone
themesba-lates1749691102