উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের ৪৮ হাজার জনগণের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন একজন ফার্মাসিস্ট। এ ছাড়া পানির ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র শৌচাগারটিও ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে।
পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিকেল অফিসার), উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহায়কসহ চারটি পদ থাকলেও শুধু একজন ফার্মাসিস্ট দিয়েই চলছে হাসপাতালটি।
তাহমিনা নামের ওই ফার্মাসিস্ট কয়েক বছর ধরে চারজনের দায়িত্ব একাই পালন করছেন। হাসপাতাল বন্ধ থাকবে ভেবে যোগদানের পর একদিনও ছুটি নিতে পারেননি তিনি।
ফলে চিকিৎসকের দায়িত্বও তিনি পালন করছেন বলে জানান তাহমিনা। এদিকে চিকিৎসক না থাকায় ওষুধ পেলেও চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা।
জানা যায়, চরসিন্দুর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সর্বশেষ নিয়োগপ্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. রাবেহা মাহমুদ ২০২০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রেষণে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে যোগ দেন।

২০২৫ সালে উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসক টাঙ্গাইলে বদলি হয়ে চলে গেছেন। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অফিস সহায়কের পদও শূন্য রয়েছে।
ফার্মাসিস্ট তাহমিনা বলেন, আইন অনুসারে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ফার্মাসিস্ট রোগীকে ওষুধ সরবরাহ করবেন এবং রোগীকে ওষুধ খাওয়ার নিয়ম বলে দেবেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বরাদ্দকৃত ওষুধ তার হেফাজতে সংরক্ষিত থাকবে। রোগী দেখা বা রোগীর ব্যবস্থাপত্র লেখা তার এখতিয়ারের বাইরে।
কিন্তু তাকে রোগীও দেখতে হচ্ছে, আলমারি খুলে ওষুধ দেওয়াসহ প্রতিদিন হাসপাতালের দুটি কক্ষ, বারান্দা ও চারপাশ ঝাড়ু দিতেও হচ্ছে। প্রতিদিন তাকে ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী সামাল দিতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তালাবদ্ধ। সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে ১০ মিনিট পর ফার্মাসিস্ট তাহমিনা ছুটে এসে তার কক্ষে ঢোকেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাশের বাসায় ওয়াশরুমে গিয়েছিলেন।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই কেন্দ্রে সেবা নিতে আসেন কয়েকজন নারী ও পুরুষ রোগী। তাদের কথা শুনেই ফার্মাসিস্ট তাহমিনা তাদের ওষুধ দিয়ে দেন। কীভাবে ব্যবস্থাপত্র ছাড়া তাদের ওষুধ দিলেন জানতে চাইলে তাহমিনা বলেন, কী করব—নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই তাদের ওষুধ দিই।
সেলিনা নামের এক রোগী এ সময় বলেন, এখানে বহুদিন ধরে কোনো ডাক্তার নেই। এই আপাই আমাদের আসলে নাপা ও অ্যান্টাসিড প্লাস এই দুই ধরনের ওষুধ দিয়ে দেন।
হাসপাতালে আসা অপর রোগী পিয়ারা জানান, এখানে কোনো চিকিৎসাই পাওয়া যায় না। ওই আপা এসে কিছুক্ষণ থাকেন, পরে আবার তিনিও চলে যান, তালা মেরে।
এ বিষয়ে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের লোকাল আদেশে ২০২০ সাল থেকে ডা. রাবেহা মাহমুদ প্রেষণে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে কাজ করছেন। তাই পরবর্তীতে চরসিন্দুরে কাউকে পোস্টিং দেওয়া হয়নি।
২০২৫ সালে উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসকও বদলি হয়ে টাঙ্গাইলে চলে যান। আমি মাত্র ৯ মাস হলো এখানে যোগদান করেছি। তবে এ বিষয়টি আমি নরসিংদীর সিভিল সার্জনকে অবহিত করেছি। আশা করি শিগগিরই এর সমাধান হবে।







